ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে জনসমুদ্র; ১৯৯তম জামাত সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বরাবরের মতো এবারও এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম ঈদ জামাত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

আবেগ ও স্মৃতির টানে মুসল্লিরা

শোলাকিয়া মানেই এক বিশাল আবেগ। পাকিস্তান আমল থেকে টানা ৫৭ বছর ধরে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে পায়ে হেঁটে আসা ৭২ বছর বয়সী আলী আকবর আকন্দ জানান, আগে ৮০ কিলোমিটার পথ হেঁটে আসতেন, এখন যাতায়াত সহজ হওয়ায় কষ্ট কমেছে। তাঁর মতো ময়মনসিংহের ত্রিশালের ইদ্রিস আলীও (৭০) কয়েক দশক ধরে এই মাঠে নামাজ আদায় করছেন। পুরোনোদের পাশাপাশি নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নতুন প্রজন্মের হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় শোলাকিয়া।

নামাজ ও মোনাজাত

এবারের জামাতে ইমামতি করেন জেলা শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। ঈদগাহ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, প্রায় তিন লাখ ধারণক্ষমতার এই মাঠে এবার আশপাশের রাস্তা ও মাঠ মিলিয়ে ছয় থেকে সাত লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন।

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণ

জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, “ভয়ের পরিবেশ দূর হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছে।”

কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা

২০১৬ সালের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার নিরাপত্তা ছিল নজিরবিহীন। সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, এপিবিএন এবং জেলা পুলিশের সমন্বয়ে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। মাঠ পর্যবেক্ষণে ছিল ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরা। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের শুধু পাতলা জায়নামাজ নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। মুসল্লিদের যাতায়াতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিল।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *