৪৯ দিনের কারাবাস শেষে এলাকায় ফিরে সাবেক চেয়ারম্যান বেলালের খোলা চিঠি
আনিছুর রহমান আইয়ুব, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ১২ দিন পর নিজ বাসভূমে ফিরে একটি আবেগঘন ও তথ্যবহুল ‘খোলা চিঠি’ লিখেছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: ওবায়দুল রহমান বেলাল। চব্বিশের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ অন্তরীণ জীবন এবং দুই দফায় মোট ৪৯ দিন কারাবাস শেষে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি এই চিঠি প্রকাশ করেন।
চিঠিতে তিনি তাঁর আইনি লড়াই, কারাজীবনের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে বহু নিকটাত্মীয়কে হারানোর বেদনা এবং নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
দুই দফায় ৪৯ দিনের কারাবাস ও মুক্তি
খোলা চিঠিতে ওবায়দুল রহমান বেলাল জানান, ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতে হাজির হয়ে ৩টি মামলায় জামিন প্রার্থনা করেন। তবে বিজ্ঞ বিচারক জামিন না-মঞ্জুর করে তাকেসহ ১৯ জনকে কারাগারে প্রেরণ করেন। ৩৫ দিন কারাভোগের পর গত ৩ মে তিনি জামিন পেলেও জেলগেট থেকে আবারও তাকেসহ ৬ জনকে ডিবি পুলিশ আটক করে। পরে মাদারগঞ্জ থানার আরেকটি মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ৪ মে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। দ্বিতীয় দফায় ১৪ দিন কারাভোগের পর গত ১৭ মে বিজ্ঞ বিচারকের সুবেচনায় তিনি চূড়ান্তভাবে জামিনে মুক্তি লাভ করেন।
জানাজায় উপস্থিত থাকতে না পারার গভীর বেদনা
সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যান অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, গত পৌনে দুই বছরে তাঁর জীবন থেকে অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। অন্তরীণ ও কারাবন্দী থাকার কারণে তিনি তাঁর দুই সহোদর বড় ভাই আব্দুল মালেক ও ময়েন উদ্দিন, শ্বশুর আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান, শ্রদ্ধেয় চাচা আলহাজ্ব তাবিবুর রহমান সুরুজ, ছোট বোন মাহমুদা, বড় ভাবি এবং বাল্যবন্ধুর মৃত্যুতে তাদের জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।
নেতাকর্মীদের পাশে থাকতে না পারার আক্ষেপ ও ক্ষমা প্রার্থনা
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি এমনিতেই অর্থনৈতিক ও ইমেজ সংকটে ভুগছিলেন। এর মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সরকার পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রিয় সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর যে অমানিশার অন্ধকার নেমে এসেছে—মামলা, হামলা, লুটপাট ও মব-সন্ত্রাসের শিকার হয়ে যারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন, নিজের সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের পাশে দাঁড়াতে না পারায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
“স্বার্থের কাছে কিছু মানুষের বন্ধুত্ব বোবা হয়ে যায়”
দীর্ঘ এই সময়ে তিনটি ঈদসহ পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত থাকার পাশাপাশি নিজের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিটিতেও তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। ওবায়দুল রহমান বেলাল আক্ষেপ করে বলেন,
“আমার এই চরম বিপদে অনেকের সহযোগিতা ও দোয়া থাকলেও, অনেকেই সুযোগ নিয়েছেন। বিপদকে আরও কঠিনতর করতে নির্দয়ভাবে আঘাত করেছেন। কিছু মানুষের বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ স্বার্থের কাছে বোবা হয়ে যায়! তবে অভিজ্ঞতা বাজারে বিক্রি হয় না, এভাবেই তা অর্জন করতে হয়।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ দেড় বছর অন্তরীণে থাকা এবং কারাগারের ৪৯ দিনের অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাবেন। একজন রাজনৈতিক কর্মী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
চিঠির শেষাংশে তিনি পবিত্র ঈদুল আজহার প্রাক্কালে সকল ভেদাভেদ ভুলে একটি শান্তিময় পৃথিবী ও সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধন গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা (ঈদ মুবারক) জানান।
