জরাজীর্ণ ঘরে থাকা বৃদ্ধাকে ঢেউটিন ও নগদ সহায়তা দিলেন ইউএনও

আনিছুর রহমান আইয়ুব মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের ফটিয়ামারী এলাকায় জরাজীর্ণ ঘরে চরম কষ্টে বসবাস করা অসহায় বৃদ্ধা কাজলি বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ওই বৃদ্ধার ঘর সংস্কারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ২ বান্ডেল ঢেউটিন প্রদান করেছেন মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী। একই সাথে ঘরটি পুরোপুরি বসবাসের উপযোগী করতে নগদ অর্থ সহায়তারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বৃষ্টির পানিতে ভিজত বিছানা-বালিশ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা টিন ও নড়বড়ে বাঁশের খুঁটির একটি জরাজীর্ণ ঘরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন বৃদ্ধা কাজলি বেগম। সামান্য বৃষ্টি এলেই ফুটো চাল দিয়ে ঘরে পানি পড়ত, ভিজে যেতো বিছানা-বালিশসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁইটুকু এভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তীব্র দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল তাকে। বিষয়টি জানার পর ইউএনও সুমন চৌধুরী সরেজমিনে বৃদ্ধার বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং তাঁর দুর্দশা দেখে তাৎক্ষণিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেন।

ঈদের পরেই মিলবে নগদ অর্থ সহায়তা

বৃদ্ধা কাজলি বেগমের ঘরটি নতুন করে দাঁড় করিয়ে দিতে প্রাথমিকভাবে ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে নগদ অর্থ দেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন,

“বয়স্ক ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। কাজলি বেগমের ঘরটি একেবারেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। আমরা প্রাথমিকভাবে তাঁর ঘর সংস্কারের জন্য ২ বান্ডেল ঢেউটিন দিয়েছি। এছাড়া পবিত্র ঈদুল আজহার পর তাঁর জন্য আরও ৬ হাজার টাকার একটি চেকের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যাতে তিনি ঘরটি পুরোপুরি মজবুতভাবে মেরামত করতে পারেন।”

আবেগাপ্লুত বৃদ্ধা ও স্থানীয়দের সাধুবাদ

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আকস্মিক ও মানবিক সহায়তা পেয়ে আনন্দে ও সুখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধা কাজলি বেগম। তিনি কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন,

“এতদিন কত কষ্টে এই ভাঙা ঘরে দিন কাটাইছি। বৃষ্টি আইলে ঘুমানোর জায়গা পাইতাম না। এখন মাথার ওপর একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারব। আল্লাহ ইউএনও স্যারকে ভালো রাখুক, তাঁর অনেক মঙ্গল করুক।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও সংবেদনশীল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এ ধরনের মানবিক পদক্ষেপ অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের মনে সরকারি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ইউএনও সুমন চৌধুরীর এই মহতী উদ্যোগ মাদারগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *