সেনবাগে মিনি ট্রাকে ৬২ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার হেলপার

​মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সেনবাগে অভিযান চালিয়ে ৬২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একটি মিনি ট্রাক আটক করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার সৈয়দ নুর (৩৩)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক মো. শাহেদ (৩৫) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

​বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর ২০২৬) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​অভিযান ও ইয়াবা উদ্ধার

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার মনীষ দাশের তত্ত্বাবধানে এবং সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহজাহান কামালের তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়।

​এ সময় নোয়াখালী থেকে ফেনীগামী দ্রুতগতির একটি নীল রঙের পোটন (POTON) মিনি ট্রাককে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। ট্রাকটি থামার পর চালক ও হেলপার পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে হেলপার সৈয়দ নুরকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে চালক মো. Shahেদ রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যান।

​পরে আটক হেলপারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাকের ডান পাশের বডির নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩১টি সাদা ও কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটের ভেতর থেকে ৬২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যার মোট ওজন প্রায় ৬ কেজি।

​এ ঘটনায় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মিনি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড-১২-৭৫৮৪), গ্রেপ্তার ব্যক্তির ব্যবহৃত একটি পুরোনো আইটেল স্মার্টফোন ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল সিম জব্দ করা হয়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা

​পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সৈয়দ নুর দাবি করেছেন—তিনি ও পলাতক চালক মো. শাহেদ ট্রাকের মালিক মো. রবিউল আলম (৩২)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের সহযোগিতায় কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে এসব ইয়াবা সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে নোয়াখালীর চরজব্বর হয়ে নরসিংদী জেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবাগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

​পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক চালকসহ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।