সুরা নাসের বিকৃত অনুবাদে বাউল আবুল সরকার ভাইরাল, ব্যাপক ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বাউল আবুল সরকার।ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিল্পী আবুল সরকারের আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে আলোচিত এই বাউলকে সুরা নাসকে ‘নাচ’-এর সঙ্গে তুলনা করতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘সুরা নাসে এত ‘নাচ’ কেন?’ (নাউজুবিল্লাহ) পরক্ষণেই তিনি আবারও বলেন, ‘আরেহ! নাচতে কইছে, এজন্য এত ‘নাস’। ভিডিও ঠিক কবে ধারণকৃত, এ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আবুল সরকার পুরো সুরা নাস তেলওয়াত করেন এবং সেখানে উল্লেখ থাকা ‘নাস’ শব্দটির ভিন্ন অর্থ করেন। নাস-এর মূল অর্থ মানুষ হলেও তিনি এর বিকৃতি ঘটিয়ে ‘নাচ’ তথা ‘ড্যান্স’ উল্লেখ করেন। তথ্যমতে, সুরাটিতে মোট পাঁচটি জায়গায় ‘নাস (মানুষ)’ উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ‘কুল আউজু বিরাব্বিন নাস। মালিকিন নাস। ইলাহিন নাস। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস। আল্লাজি ইউওয়াসউইসু ফি সুদুরিন নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস।’

এদিকে ওই বক্তব্যের ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন কেউ কেউ। বিষয়টিকে ধর্মীয় অনুভূতি, মূল্যবোধ এবং সামাজিক সংবেদনশীলতায় আঘাত উল্লেখ করে নেটিজেনরা বলছেন, ‘পবিত্র ধর্মীয় বাণীকে বিকৃত করে গান বা নাচের উপকরণ বানানো কাম্য নয়।’

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ও সুরা নাসের ব্যাখ্যা

রায়হান নামে একজন লিখেছেন, “আবুল সরকার কোরআন মানুক বা না মানুক, সেটা নিয়ে কথা নেই। কিন্তু তিনি এই ধরনের বিকৃতি করতে পারে না।” তার ভাষ্য, সুরা নাসের মূল যে কথা, সেটার ব্যাখ্যা না করে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তার ভাষায়, সুরা নাস মানুষকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতে শিক্ষা দেয়। এই সুরায় আল্লাহকে তিনটি গুণে সম্বোধন করা হয়েছে:

  • রব্বিন নাস (মানুষের রব): আল্লাহ মানুষের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা।
  • মালিকিন নাস (মানুষের অধিপতি): তিনি মানুষের উপর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।
  • ইলাহিন নাস (মানুষের উপাস্য): তিনিই একমাত্র উপাসনার যোগ্য।

তথ্যমতে, সুরা নাস কুরআনের ১১৪তম এবং শেষ সুরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ বলে মাক্কী সুরা নামে পরিচিত। এতে মোট ৬টি আয়াত রয়েছে। এই সুরাটি মানুষকে শয়তানের প্রতারণা ও মন্দ প্রভাব থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতে শেখায়। এটি ‘মু’আওয়িযাতাইন’ (দুটি আশ্রয়প্রার্থনার সুরা: সুরা ফালাক ও সুরা নাস)–এর একটি।

হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস পড়তেন, হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে মুছে নিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৭) সুরা নাসের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত আছে, নবীজি (সা.)–কে যখন জাদু করা হয়, তখন সুরা ফালাক ও সুরা নাস নাজিল হয় এবং তিনি এই দুই সুরা পড়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন এবং আরোগ্য লাভ করেন। (সুনান নাসাঈ, হাদিস: ৫৪৩৭)

‘আমার মুক্তচিন্তা’ নামে একটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘পবিত্র কুরআন নিয়ে এই কথাগুলো কোন মুসলমানের পক্ষে হজম করা সম্ভব?’ ভিডিওটি কমেন্টে আবু দাউদ নামে একজন লিখেছেন, ‘পবিত্র কুরআন নিয়ে যে বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, বিকৃত উচ্চারণ করছেন, কোন মুসলমান যদি এর পক্ষে কথা বলে আল্লাহর কসম তার ঈমান থাকবে না।’

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *