লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মহিষ খামারিদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর)

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় ‘মহিষ পালনে পুষ্টি, প্রজনন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এক নিবিড় খামারি প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) সাভারের বাস্তবায়নাধীন ‘মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প’ এর অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ও গুরুত্ব
গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম ফজলুল হক এই প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি শেষ হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. ফজলুল হক বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে উন্নত জাত নির্বাচন, কৃত্রিম প্রজনন এবং সাইলেজ ও ইউএমএস (UMS) ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য সংকট দূর করে মহিষ পালনকে লাভজনক করা সম্ভব।

প্রজনন সমস্যা ও সমাধান
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. গৌতম কুমার দেব। তিনি বলেন, মহিষ উৎপাদনে ‘আন্তঃপ্রজনন’ (Inbreeding) একটি বড় সমস্যা। এটি সমাধানে নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রজনন ষাঁড় পরিবর্তন এবং কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুণগত বংশ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। এতে দুধ ও মাংসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
খামারিদের যা শেখানো হলো
তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে রামগতির বিভিন্ন এলাকার ৫০ জন নির্বাচিত খামারি অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে হাতে-কলমে শেখানো হয়:
- স্বল্প খরচে দুধালো মহিষের পুষ্টি ব্যবস্থাপনা।
- সুষম দানাদার খাদ্য মিশ্রণ ও সাইলেজ তৈরির কৌশল।
- গর্ভবতী ও দুগ্ধবতী মহিষের স্বাস্থ্য রক্ষা ও কৃমি নিয়ন্ত্রণ।
- ইস্ট্রাস সিনক্রোনাইজেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রজনন নিয়ন্ত্রণ।
বিএলআরআই-এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইফতেখার আলম সরকারের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ শেষে খামারিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে তাঁরা উন্নত জাতের বীজ এবং প্রয়োজনীয় টিকা আরও সহজলভ্য করার দাবি জানান।
