রেকর্ড খাদ্য মূল্যহ্রাসে ভারতে মূল্যস্ফীতি শূন্যের কোঠায়, বাংলাদেশে এখনও ৮.১৭%
অর্থনীতি ডেস্ক

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফলতা পাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। দেশটিতে খুচরা মূল্যস্ফীতির হার ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ইকোনমিক টাইমসের সংবাদে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি হয়েছে দশমিক ২৫ শতাংশ।
কিন্তু ভারতের বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলেও বাংলাদেশে আসছে না। বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ঘরে। অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে ঠিক, কিন্তু এখনো তা ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুসারে, কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ওঠানামার মধ্যে আছে।
ভারতে মূল্যস্ফীতি কমার কারণ
- খাদ্যের দাম হ্রাস: অক্টোবর মাসে ভারতে খাদ্যের দাম অনেকটাই কমে এসেছে। ভোক্তা মূল্যসূচকে খাদ্যের হিস্যাই প্রায় অর্ধেক। অক্টোবর মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাদ্য মূল্যসূচক কমেছে ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ হ্রাস।
- সরকারের পদক্ষেপ: সরকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে করছাড় দেওয়ায় গাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (জিএসটি) কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যার মধ্যে দুগ্ধজাত দ্রব্য, সাবান, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু ও অন্যান্য ব্যক্তিগত যত্নআত্তির পণ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ভারতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কম
ভারতের মূল্যস্ফীতি এখন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার (৪ শতাংশ) চেয়ে কম। বাস্তবতা হলো, ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতির হার এ নিয়ে টানা চার মাস এই লক্ষ্যমাত্রার নিচে। সেই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ সহনসীমা (৬ শতাংশ)-এর নিচে আছে টানা সাত মাস।
বাস্তবতা হলো, ২০১৫ সাল থেকে এই সূচক চালু হওয়ার পর এটাই ভারতের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্যস্ফীতি। এমন পরিস্থিতিতে আশা করা হচ্ছে, আরবিআই আগামী মাসে আবারও নীতি সুদহার কমাবে, ফলে ভারতের অর্থনীতিতে আরও গতি আসবে।
বাংলাদেশে পরিস্থিতি ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ঘরে থাকায় জনজীবনে তেমন প্রভাব পড়ছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ঘরে ছিল।
- নীতি সুদহার: বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতির রাশ টানতে দফায় দফায় নীতি সুদ বাড়িয়েছে। এখন তা ১০ শতাংশ।
- বিশ্লেষকদের অভিমত: বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বাংলাদেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি কমাতে কেবল মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয়। এমনকি সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নীতি সুদহার কমানোর পক্ষপাতী। তাঁরা মনে করেন, এ কারণে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে এবং অর্থনীতিতে গতি আসছে না।
- পরামর্শ: বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে মুদ্রানীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে রাজস্বনীতি প্রণয়ন এবং বাজার ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
