ময়মনসিংহে চুরির মালামাল উদ্ধারে ঘুষ গ্রহণ ও উল্টো ভুক্তভোগীকে লক-আপে ভরার হুমকির অভিযোগ এসআই-এর বিরুদ্ধে
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের গুলপুকুর পাড় এলাকায় চুরির ঘটনা তদন্ত ও মালামাল উদ্ধারের নামে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ এবং উল্টো তাকেই জেল হাজতে (লক-আপ) পাঠানোর হুমকির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম এসআই কাইয়ুম।
সম্প্রতি কোতোয়ালি মডেল থানায় ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি এবং স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রনেতার উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার একটি অডিও রেকর্ড এবং ভুক্তভোগীর ছবি থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চুরির পর ভুক্তভোগী আইনি সহায়তার জন্য পুলিশের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ রয়েছে, মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই কাইয়ুম আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা ও মালামাল উদ্ধারের কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছে টাকা দাবি করেন।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ (পেশায় মাঝি), যিনি গুলপুকুর পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস আগে তার বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা তার বাসার আসবাবপত্রসহ সব মালামাল এবং মোবাইল ফোনের সিম কার্ড নিয়ে যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, চোরেরা চুরি করা ওই সিম কার্ডগুলো ব্যবহার করছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী: ১. সিম ট্র্যাকিং এবং আসামিদের ধরতে এসআই কাইয়ুম প্রথমে ৪৫০০ টাকা দাবি করেন। ২. ভুক্তভোগী নিরুপায় হয়ে বিকাশের মাধ্যমে এবং নগদে ধাপে ধাপে টাকা পরিশোধ করেন। ৩. টাকা নেওয়ার পরেও এসআই কাইয়ুম দীর্ঘ দিন ধরে “আজ ধরবো, কাল ধরবো” বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। ৪. একপর্যায়ে ভুক্তভোগী বারবার অনুরোধ করলে এসআই কাইয়ুম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধমক দেন এবং বলেন, “বেশি কথা বললে তোরেই লক-আপে ভরমু (জেলে ঢুকাবো)।”
থানায় তোলপাড়
বিষয়টি জানাজানি হলে ৫ আগস্ট পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা ভুক্তভোগীকে নিয়ে থানায় উপস্থিত হন। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে এসআই কাইয়ুমের এই কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
অডিওতে শোনা যায়, উপস্থিত ছাত্র প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তোলেন, ৫ আগস্টের পর পুলিশ প্রশাসনের সংস্কারের কথা বলা হলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে সাধারণ মানুষ এখনো হয়রানির শিকার হচ্ছে। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত এসআই-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানান।
“এ সময় থানায় উপস্থিত নবনিযুক্ত ইনচার্জ (আইসি) বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব নিয়ে ভুক্তোভোগীকে আশ্বস্থ করেছেন”।
