ভুটানে ৫.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল ঢাকাসহ সারা দেশ

বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। রবিবার (৭ জুন ২০২৬) দিবাগত রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। আকস্মিক এই কম্পনে মধ্যরাতে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই বহুতল ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও তীব্রতা

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। এর উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পুনাখার ১৫ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে এই উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল মাত্র ৪৩২ কিলোমিটার।

সারা দেশের পরিস্থিতি

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল কাছাকাছি হওয়ায় বাংলাদেশের একটি বড় অংশ জুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে তুলনামূলক বেশি ঝাঁকুনি পোহাতে হয়েছে।

স্থানীয় প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের নিম্নলিখিত জেলা ও এলাকাগুলোতে ভূকম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে:

  • রংপুর ও গাইবান্ধা
  • বগুড়া ও শেরপুর
  • সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাট
  • কুষ্টিয়া ও নীলফামারী
  • সৈয়দপুর

আন্তর্জাতিক প্রভাব

মাঝরাতের এই ভূমিকম্পটি কেবল ভুটান বা বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ‘অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম’ (Android Earthquake Alerts System)-এর দেওয়া রিয়েল-টাইম ডাটা অনুযায়ী, এই ভূম্পিকম্পের প্রভাবে ভুটানের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, নেপাল এবং চীনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের কম্পন অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর আফটার শক (অনুকম্পন)-এর কোনো সতর্কতা না থাকলেও বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *