নাদিম ভাইয়ের বিরুদ্ধে “ষড়যন্ত্র হয়েছিল” – ডিবি ওসি ইমারত হোসেন গাজী! পর্ব-০২
স্টাফ রিপোর্টার

গ্যাসের চুলা ও ভাঙা পাইপকে ‘অস্ত্র’ সাজিয়ে সাংবাদিক নাদিমের জীবন ধ্বংসের এক ভয়ানক ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ওয়ালিদ আহমেদ অলি। তার শেয়ার করা একটি ফোনালাপে তৎকালীন ডিবির ওসি ইমারত হোসেন গাজীকে এই ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করতে শোনা গেছে।
অপারেশন ও ‘মেমোরি লস’ নাটক
ফোনালাপে শোনা যায়, কথোপকথনের শুরুতে ওসি ইমারত গাজী নিজেই অপারেশন করার কথা স্বীকার করে শেখ নাদিমের মায়ের এবং বাড়ির বর্ণনা দিতে থাকেন। কিন্তু ছাত্রনেতা যখন তাকে সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে যুক্তিসংগত প্রশ্ন করেন, তা শুনার পর থেকে তিনি পরপরই অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন তিনি কিছুই জানেন না। একপর্যায়ে তোপের মুখে তিনি স্বীকার করেন যে, ঘটনাটি ছিল দুঃখজনক এবং সাংবাদিক নাদিমের বিরুদ্ধে “ষড়যন্ত্র হয়েছিল”।
দেশ ছাড়ছেন সাবেক ওসি?
এদিকে, এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রনেতা ওয়ালিদ আহমেদ জানান, আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাফিউস সুলতান রোহান-এর কাছে খোদ ওসির শ্যালক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি যোগাযোগ করে জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইমারত গাজী শত কোটি টাকার ভূ-সম্পত্তি ও ফ্লাট গড়েছেন। বর্তমানে তিনি অতি সস্তায় সেসব সম্পত্তি বিক্রি করে গোপনে দেশের বাইরে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন।
সতর্কবার্তা
ওয়ালিদ আহমেদ অলি জানান, ওই ব্যক্তি রোহানকে আরও জানিয়েছেন—কারো সাথে ওসির কোনো আর্থিক লেনদেন থাকলে যেন তারা দ্রুত যোগাযোগ করেন। একজন সনামধন্য সাংবাদিক ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে প্রশাসন কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল, এই ফোনালাপ তার প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্র উনাদের কাছে অনেক দায়বদ্ধ, অথচ ওসি এখন দায় এড়াতে চাইছেন”। ছাত্রসমাজ অবিলম্বে এই ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে।
