কারাগারে নয়, ছিলাম কসাইখানায়’: মুক্ত ফিলিস্তিনিদের অভিজ্ঞতা

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত ফিলিস্তিনিদের বাসে করে নেওয়া হচ্ছে। এ সময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাঁদের স্বাগত জানান। ১৩ অক্টোবর ২০২৫, খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালের বাইরেছবি: এএফপি।
আল–জাজিরা।
ইসরায়েলে বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পাওয়া গাজার খান ইউনিস শহরের কয়েকজন ফিলিস্তিনি তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। আল–জাজিরার সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁরা সেখানকার পরিস্থিতিকে কারাগারের চেয়েও খারাপ বলে বর্ণনা করেন।
মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি আবদাল্লাহ আবু রাফি ইসরায়েলের কারাগারের অবস্থাকে এককথায় এভাবে বর্ণনা করেছেন—
“আমরা ছিলাম এক কসাইখানায়, কারাগারে নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই কসাইখানার নাম ছিল ওফের কারাগার। সেখানে কোনো তোশক নেই, খাবারের অবস্থা খুব খারাপ। সবকিছুই সেখানে কঠিন।”
আরেক মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি ইয়াসিন আবু আমরা কারাগারের অবস্থাকে ‘খুব, খুব খারাপ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,
”খাবার, নির্যাতন, প্রহার—সবদিক থেকেই অবস্থা ভয়ানক। সেখানে খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। আমি টানা চার দিন কিছু খাইনি।”
মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যা
ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, দেশটি প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে, যাঁরা আজীবন বা দীর্ঘ মেয়াদে সাজা ভোগ করছিলেন।
এ ছাড়া গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আটক করা আরও প্রায় ১ হাজার ৭১৮ জন ফিলিস্তিনিকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ এই বন্দীদের ‘বলপূর্বক গুম হওয়া’ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছিল।
গতকাল মুক্তি পাওয়া সাইদ শুবাইর স্বাধীনতার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছেন, “কারাগারের বাইরে মুক্ত আকাশে সূর্য দেখা—এক অবর্ণনীয় অনুভূতি। আমার হাত এখন শৃঙ্খলমুক্ত। স্বাধীনতার কোনো মূল্য হয় না; এটা অমূল্য।”
