আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সুবর্ণচরের খাসেরহাটের দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

সুবর্নচরের খাসেরহাটের সকল দোকানপাট বন্ধ।ছবি

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের উপজেলা সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে চরজব্বর থানা পুলিশ গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিএনপি নেতার নির্দেশে স্থানীয় চরবাটা খাসেরহাট বাজারের দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলছেন, জাহাঙ্গীর আলম নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামীলীগের উপজেলা সহসভাপতি। ১৩ তারিখে ঢাকায় লোক সমাগমে বিষয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন—এমন অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকাল ৫টায় উপজেলার চরবাটা থেকে তাকে আটক করা হয়।

দোকান বন্ধ ও প্রতিবাদ

এ ঘটনার প্রতিবাদে বাজার পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাতে মাইকিং করে আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে সাড়ে সকাল এগারোটার দিকে ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেন

  • প্রভাব: জানা যায়, আটককৃত আনিসুল হক জাহাঙ্গীর (চরবাটা ইউনিয়নের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য, আওয়ামীলীগের উপজেলা সহসভাপতি, খাসের হাট বাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি) এবং তাঁর পরিবারের বাজারের ৫০-৬০টি দোকান ভিটির মালিকানা রয়েছে। যে কারণে বাজার ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখতে একপ্রকার বাধ্য ছিল।

বিএনপি নেতার বক্তব্য

ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান ও বাজার পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি (ক্ষমতাবলে) ও বিএনপি নেতা হাজী গোলাম মাওলা বলেন, “বাজার কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন কিনা তা আমার জানা নেই।”

গোলাম মাওলা আরও বলেন, ‘অতি দ্রুত জাহাঙ্গীর মিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

বাজার ব্যবসায়ী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবদুর রহমান খোকন বলেন, “জাহাঙ্গীর মিয়া একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে জানি। তাঁর মতো ব্যবসায়ীকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ গ্রেপ্তার করার কারণে বাজার কমিটি দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। রাজনীতি একান্ত তাঁর ব্যক্তিগত তবে আমরা তাঁকে পুরাতন ব্যবসায়ী হিসেবে জানি।” তিনি নিজে বাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সুশীল সমাজের ক্ষোভ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, লীগের নেতার জন্য এই ভাবে বাজারের দোকানপাট বন্ধ করায় তাঁদের ব্যবসার ক্ষতি করার অধিকার কারও নেই। সুবর্ণচর সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, “বাজার বন্ধ রেখে সাধারণ ক্রেতাদের হয়রানি করার অধিকার তাদের কে দিল? উনার গ্রেফতারের প্রতিবাদ আমরাও করেছি কিন্তু বাজার বন্ধ রাখার মতো এমন সিদ্ধান্তের জন্য বাজার পরিচালনা কমিটির পদত্যাগ দাবি করি।”

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “আনিসুল হক জাহাঙ্গীর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের উপজেলা সহ-সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তাঁকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *