মাদারগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘেরাও; ভাঙচুরের চেষ্টা, নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

আনিছুর রহমান আইয়ুব, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে অসহনীয় লোডশেডিং ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে গভীর রাতে পল্লী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। রবিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাতে মাদারগঞ্জ উপজেলা সদরের পূর্বপাড়া এলাকায় অবস্থিত বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা কেন্দ্রে ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তীব্র লোডশেডিং ও পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই পুরো মাদারগঞ্জ উপজেলা জুড়ে তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুতের এই চরম অব্যবস্থাপনায় গ্রাহকদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ক্ষোভ জমছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ বিক্ষুব্ধ গ্রাহক হঠাৎ করেই একজোট হয়ে পূর্বপাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ঘেরাও করেন। এ সময় তারা বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ জানাতে থাকেন।

ভাঙচুরের চেষ্টা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

বিক্ষোভের একপর্যায়ে গ্রাহকদের একাংশ চরম উত্তেজিত হয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করলে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরবর্তীতে মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ফারজানা ইয়াসমিনও পুলিশসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা উত্তেজিত গ্রাহকদের মুখোমুখি হয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমিয়ে আনার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিক্ষুব্ধ গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—

“চরম গরমে দিন-রাত মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। সামনে আমাদের ছেলেমেয়েদের এইচএসসি পরীক্ষা, অথচ বিদ্যুতের অভাবে তারা ঠিকমতো পড়াশোনার টেবিলে বসতে পারছে না। বারবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে অতিষ্ঠ হয়েই আমরা রাতে ঘর থেকে বের হয়ে এখানে আসতে বাধ্য হয়েছি।”

চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম সরবরাহ

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডি.জি.এম. ফারজানা ইয়াসমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান—

“রাত ১০টার দিকে কয়েকশ মানুষ কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে ঘেরাও করে রেখেছিল। পরে পুলিশসহ আমরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।”

বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন—

“মাদারগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে আমরা সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ৭ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় পুরো উপজেলায় সুষম সরবরাহ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই আমাদের ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, দ্রুতই লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”

পল্লী বিদ্যুৎ ও থানা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *