ফুলবাড়ীতে ১৮ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাইক্রোবাস জব্দ, মাদক কারবারি পলাতক
মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় পুলিশ এক সফল অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা বদরের খামার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোট ১৮ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে মাইক্রোবাসের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বাগানবাড়িতে বিশেষ অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফুলবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন আলীর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানটি সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) গোলাম মোর্শেদ এবং ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহামুদ হাসান নাঈমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দল চন্দ্রখানা বদরের খামার গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সোবহান মাস্টারের বাগানবাড়িতে হানা দেয়। সেখানে পার্কিং করে রাখা একটি সন্দেহভাজন মাইক্রোবাস তল্লাশি করা হয়।
“তল্লাশিকালে মাইক্রোবাসের চালকের আসনের নিচে অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা পাঁচটি বড় পোটলা উদ্ধার করে পুলিশ। পোটলাগুলো খুলে গণনা করে মোট ১৮ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। তবে অভিযানকারী দল গাড়িটির কাছে পৌঁছানোর আগেই টের পেয়ে চালক মাইক্রোবাসটি রেখে দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।”
পলাতক আসামির পরিচয় শনাক্ত
অভিযান শেষে জব্দকৃত গাঁজা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি ফুলবাড়ী থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে পালিয়ে যাওয়া চালকের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। পলাতক মাদক কারবারির নাম মোঃ আকাশ মিয়া (২৫)। সে উপজেলার বজরের খামার সুখানদিঘির পাড় এলাকার সফি মিয়ার ছেলে।
আইনি পদক্ষেপ
ফুলবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
“মাদক চোরাচালান বন্ধে আমাদের এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পলাতক আসামি আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”
সীমান্তবর্তী এই এলাকায় মাদকের এমন বড় চালান জব্দের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং মাদকের মূল উৎপাটনে নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
