ফুলবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের বিষপ্রয়োগের অভিযোগ, সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা মৎস্যচাষী হামিদুল
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের বিষপ্রয়োগের অভিযোগে এক ক্ষুদ্র মৎস্যচাষীর স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দুই দফায় লিজ নেওয়া পুকুরের লাখ লাখ টাকার মাছ মরে ভেসে ওঠায় এখন সর্বস্ব হারানোর উপক্রম হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত হামিদুল ইসলামের।
উপজেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক পরীক্ষায় পানি বা মাছের স্বাভাবিক কোনো রোগবালাই না পাওয়ায়, এ ঘটনার পেছনে শত্রুতামূলক নাশকতার জোরালো আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই দফায় বড় অঙ্কের লোকসান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বাঘের বাজার সংলগ্ন একটি পুকুর এক লাখ টাকা লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন ভুক্তভোগী হামিদুল ইসলাম। কিছুদিন আগে প্রথম দফায় প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ মরে ভেসে উঠলে তিনি বড় ধাক্কা খান।
সেই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ধার-দেনা করে পুনরায় প্রায় এক লাখ টাকার মাছের পোনা ছাড়েন তিনি। কিন্তু গত দুই-তিন দিন ধরে আবারও রহস্যজনকভাবে পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করেছে। এতে দ্বিতীয়বারের মতো চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই পরিশ্রমী খামারি।
মৎস্য বিভাগের পরীক্ষা ও নাশকতার সন্দেহ
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষী হামিদুল ইসলাম বলেন—
”আমি একজন ক্ষুদ্র মৎস্যচাষী। অনেক কষ্টে এক লাখ টাকা দিয়ে পুকুরটি লিজ নিই। প্রথম দফায় দুই লাখ টাকার মাছ মরে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে নতুন করে আবারও এক লাখ টাকার মাছ ছেড়েছিলাম। গত তিন দিন ধরে সেগুলোও আবার মরে ভেসে উঠছে। ঘটনাটি আমি স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরকে জানিয়েছি।”
খবর পেয়ে উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুরের পানি ও মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে পুকুরের পানির গুণগত মান বা মাছের শরীরে কোনো স্বাভাবিক রোগব্যাধির লক্ষণ পাওয়া যায়নি। ফলে পূর্বশত্রুতার জেরে কোনো দুর্বৃত্ত দল রাতে পানিতে ক্ষতিকারক বিষপ্রয়োগ করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষোভ ও বিচারের দাবি স্থানীয়দের
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাঘের বাজার এলাকার বাসিন্দা ইয়াকুব আলী ও শফিকুল ইসলাম জানান, হামিদুল একজন পরিশ্রমী মানুষ। একজন ক্ষুদ্র চাষীর রুজি-রোজগারের এমন নির্মম ক্ষতি করা চরম ঘৃণ্য কাজ। তাঁরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বর্তমানে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের বিচার এবং সরকারি সহায়তার আশায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
