ফুলবাড়ীতে ডিলারের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার উত্তোলন: ২০ বস্তা জব্দ, আটক ১
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিসিআইসি ডিলারের কাছ থেকে অবৈধ পন্থায় সার উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার সময় ২০ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আজিমুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বালারহাট বাজারে অবস্থিত মেসার্স সৈকত ট্রেডার্সের সার বিতরণ কেন্দ্র থেকে ভ্যানযোগে সার নিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
কৃষি কর্মকর্তাদের নজরে অনিয়ম
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসার্স সৈকত ট্রেডার্সের সার বিতরণ কেন্দ্রে সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সার বিতরণ কার্যক্রম চলে। কার্যক্রম শেষে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ শাহ, ইব্রাহিম আলী ও আসাদুজ্জামান বালারহাট বাজারে নাস্তা করতে যান। এ সুযোগে একটি ভ্যানে করে ২০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাদের নজরে এলে তারা ভ্যানটি থামিয়ে সারগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছে এবং কতজন কৃষকের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে তা জানতে চান। এ সময় উপস্থিত আজিমুল ইসলাম দাবি করেন, ২০ জন কৃষকের জন্য সারগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কাগজপত্রে অসঙ্গতি ও পুলিশে সোপর্দ
খবর পেয়ে অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন ও এআইও সুশান্ত কুমার রায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা কথিত ২০ জন কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মাস্টাররোল যাচাই-বাছাই করে নানা অসঙ্গতি দেখতে পান।
পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আজিমুল ইসলামকে আটক করে। আটক আজিমুল উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা ওয়ার্ডের বাদশা মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর থেকেই মেসার্স সৈকত ট্রেডার্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার চম্পট দেয় এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান—
”অবৈধ পন্থায় সার উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার সময় ২০ বস্তা সারসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অনিয়মের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা বিস্তারিত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
