“ওপরতলার কিছু শিক্ষিত লোক ঘাড়ের ওপর গণভোট ও সনদ চাপাচ্ছে”: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে।ছবি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ওপরতলার কিছু শিক্ষিত লোক যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে ঘাড়ের ওপর গণভোট ও সনদের মতো বিষয় চাপিয়ে দিচ্ছে। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গণভোট ও সনদের সমালোচনা

মির্জা ফখরুল উপস্থিত লোকজনকে প্রশ্ন করে বলেন, “আপনারা কি গণভোট, সনদ এসব বোঝেন? এসব বোঝেন শিক্ষিত কিছু ওপরতলার লোক। যাঁরা আমেরিকা থেকে এসে এসব আমাদের ঘাড়ের ওপর চাপাচ্ছেন।”

  • ভিন্নমত: তিনি বলেন, “কয়েকটা দল বলছে, নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে। আর আমরা বলছি, নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে হবে।”
  • সংস্কার: তিনি বলেন, তাঁরা (বিএনপি) মেনে নিয়েছেন। তাঁরা যতগুলো সংস্কার করতে চান, তাতে বিএনপি রাজি আছে। যেটাতে রাজি হবে, সেটা বাস্তবায়িত হবে। যেটাতে রাজি হবে না, সেটা পার্লামেন্টে যাবে, সেখানে তর্ক-বিতর্ক হবে, এরপর তা পাস হবে।

জনগণের ভোট ও সরকারের দায়বদ্ধতা

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ দেশে যত সংকট, তা তৈরি করা এবং নাটক বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, সাধারণ মানুষ এত কিছু বোঝেন না, তাঁরা ভোট দিতে চান। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর আমরা কোনো নির্বাচন করতে পারিনি…এবার আমরা সবাই ভোট দিতে চাই।”

  • হাসিনার পলায়ন: গণ–অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “হাসিনা পালিয়ে গিয়ে নিজের দলের নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের অসহায় অবস্থায় ফেলে গেছেন। এতে বোঝা যায়, কর্মী ও জনগণের ওপর শেখ হাসিনার কোনো দরদ নেই।”
  • অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা: তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ভোট করে আসেনি, আমরা সবাই মিলে এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছি। সরকারের পেছনে তো কোনো লোক নেই। এ কারণে মানুষের কষ্ট এই সরকার বোঝে না। কৃষকের কষ্ট কোথায়, সমস্যা কোথায়, এই সরকার বোঝে না।”

শেষ নির্বাচন ও আবেগঘন আহ্বান

বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি তেমন ভালো নয়। তাই আসছে নির্বাচন তাঁর জীবনের শেষ নির্বাচন হবে।

তিনি বলেন:

“আমি আপনাদের মানুষ। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। কত দিন বাঁচব, জানি না। আমি বলেছি, এটা আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। নির্বাচনের সময় আমার শক্তি থাকবে কি না, জানি না। আপনাদের কাছে আকুল আবেদন, আমার শেষ নির্বাচনে, আমাকে সাহায্য করবেন, সহযোগিতা করবেন। আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।”

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *