অ্যানেস্থেসিয়া আধুনিক চিকিৎসার মেরুদণ্ড: মমেকহা সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা

ময়মনসিংহ

১৭৯তম বিশ্ব অ্যানেস্থেসিয়া দিবসে বিশেষজ্ঞদের সেমিনার, বিভাগে উন্নয়নের তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার

মুমূর্ষু রোগীর লাইফ সাপোর্টে অ্যানেস্থেসিয়ার কোনো বিকল্প নেই এবং অ্যানেস্থেসিয়া আধুনিক চিকিৎসার মেরুদণ্ড—এমন মন্তব্য করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেকহা) হলরুমে ১৭৯তম বিশ্ব অ্যানেস্থেসিয়া দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তাঁরা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সোসাইটি ময়মনসিংহ জেলা শাখা এই সেমিনারের আয়োজন করে।

বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ তাগিদসমূহ

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের মানোন্নয়নের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জরুরি বলে উল্লেখ করেন:

  • মানবসম্পদ: সার্জারির তুলনায় অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় ‘এক সার্জন, এক অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের’ প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করা।
  • কর্মপরিবেশ: গাইনি ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের সুষ্ঠু চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা বিরতি দেওয়া।
  • প্রযুক্তি ও ব্যবস্থা: এআই রিলেটেড রোবট সিস্টেমের ব্যবহার চালুর প্রস্তুতি নেওয়া এবং ক্রিটিকাল কেয়ার ম্যানেজমেন্ট চালু করা।
  • জরুরি সেবা: প্রি অ্যানেস্থেটিক চেকআপ এবং দুর্যোগ ও ইমার্জেন্সি সময়ে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

বক্তারা বলেন, অ্যানেস্থেসিয়া ভালো হলে রোগীর জন্য ভালো, আর খারাপ হলে রোগীর জন্য খারাপ হবে। অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়া সার্জনরা অগ্রসর হতে পারবে না এবং জীবনের শুরু ও শেষে অ্যানেস্থেসিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

বাংলাদেশ অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সোসাইটি ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক ডাঃ মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মমেক হাসপাতালের পরিচালক জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিবিএমসিবি অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী, মমেকহা অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. হারুন-অর-রশিদ, সিবিএমসিবি পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ এম. করিম খান এবং এমএমসি উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মো. মতিউর রহমান

ডাঃ ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় দিবসের উপর প্রেজেন্টেশন পেশ করেন মমেকহা আইসিইউ প্রধান অধ্যাপক মো. হারুন-অর-রশিদ। এই দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিসহ নানা আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *