১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট: জুলাই সনদ ও আগামীর বাংলাদেশ

মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেশ। ভবিষ্যতে কোনো সরকার যাতে আর ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই রচিত হয়েছে ‘জুলাই সনদ’। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এই সনদের ২৮টি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর জনসমর্থন যাচাই করতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক গণভোট।

কেন এই গণভোট?

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত থাকলেও, রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে জনগণের সরাসরি মতামত নিতেই এই আয়োজন। এই গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী ৫০ বছরের বাংলাদেশের ভাগ্য।

গণভোটের প্রধান ১১টি প্রস্তাবনা একনজরে

১. নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গঠন: নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ২. সংবিধান সংশোধনে বাধ্যবাধকতা: জনমত যাচাই বা গণভোট ছাড়া সরকার চাইলেই এককভাবে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। ৩. সংসদে ক্ষমতার ভারসাম্য: বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা। ৪. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা: কোনো ব্যক্তি সব মিলিয়ে ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। ৫. সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন: ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে উন্নত বিশ্বের মতো পার্লামেন্টে ‘উচ্চকক্ষ’ প্রবর্তন করা। ৬. স্বাধীন বিচার বিভাগ: বিচারালয়ে নির্বাহী বিভাগের নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করে বিচারকদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ৭. নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি: রাষ্ট্র ও রাজনীতির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।৮. মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা: ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারসহ সময়োপযোগী নতুন বিষয়গুলোকে মৌলিক অধিকারে অন্তর্ভুক্ত করা। ৯. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সীমিতকরণ: দলীয় বিবেচনায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করা। ১০. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা। ১১. মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ: কোটামুক্ত ও মেধাযুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

‘হ্যাঁ’ ভোট ও ‘না’ ভোটের ফলাফল

উপদেষ্টাদের মতে, যদি জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়যুক্ত করে, তবে আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবেন তারা এই সংস্কারগুলো সংসদে আইন হিসেবে পাস করতে বাধ্য থাকবেন। অন্যদিকে, ‘না’ ভোট মানে বর্তমান ব্যবস্থাই বহাল থাকা, যা চব্বিশের আন্দোলনের প্রত্যাশা পূরণে অন্তরায় হতে পারে।

বিভ্রান্তি এড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিন

জুলাই সনদ নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সংস্কারের প্রতিটি অনুচ্ছেদ জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। তাই কোনো অপতথ্যে কান না দিয়ে, একাধিক সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে দেশের কল্যাণে সুচিন্তিত রায় প্রদানই এখন নাগরিক দায়িত্ব।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *