বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রেমিকের বাড়িতে মুসলিম তরুণী, অতঃপর জানা গেল প্রেমিক হিন্দু!
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পরিচয় গোপন করে মুসলিম তরুণীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের পর প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা আশুলিয়ায় গার্মেন্টস চাকরিকালে গড়ে ওঠা এই সম্পর্কের জেরে বর্তমানে চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী তরুণী।
পরিচয় গোপন ও প্রতারণার ঘটনা
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামের রতন চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে শ্রী তপন কুমার (২২) নিজের ধর্ম ও পরিচয় গোপন করে কুমিল্লার এক মুসলিম তরুণীর (১৭) সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। দীর্ঘ এক বছরের সম্পর্কের একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে তরুণীকে ফুলবাড়ীতে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন তপন। তিন দিন হিন্দু পরিবারে রাখার পর তাদের চালচলন দেখে তরুণী সত্যতা বুঝতে পারেন। এরপর বিয়ের জন্য চাপ দিলে তপনের পরিবার ও বহিরাগতরা তাকে মারধর করে অচেতন করে ফেলে রাখে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ভূমিকা ও উদ্ধার
অচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা তরুণীকে উদ্ধার করে এলাকার মুদি দোকানদার নুরুজ্জামানের বাড়িতে রাখে। পরে খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানার এএসআই শাহানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দেন। তবে ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার বাবলা তাঁর ফোনটি কেড়ে নিয়েছেন এবং সম্পর্কের যাবতীয় ডিজিটাল আলামত ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন। এমনকি সংবাদকর্মীদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের বক্তব্য
ওয়ার্ড মেম্বার বাবলা জানান, পুলিশ তাকে দায়িত্ব দিয়ে আসার পর স্থানীয় কিছু লোক বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। এর বাইরে তিনি আর কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে। যেহেতু ছেলে-মেয়ে ভিন্ন ধর্মের, তাই স্থানীয় মেম্বার বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসে। তবে ভুক্তভোগী এখন পর্যন্ত কোনো আইনি সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন।
বিরাজমান উত্তেজনা
ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে এই ধরনের প্রতারণা এবং তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণী তাঁর মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
