ফুলবাড়ীতে ১,১৭০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা, সবজি বীজ ও সার বিতরণ
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ১৭০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের গাছের চারা, শাকসবজির বীজ, জৈব ও রাসায়নিক সার এবং বাঁশের খুঁটি বিতরণ করা হয়েছে। গত সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে এই বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
আলোচনা সভা ও অতিথিবৃন্দের উপস্থিতি
কৃষি উপকরণ বিতরণের আগে উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিরূপা ইয়াছমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আকতার।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুর রহমান। এছাড়াও সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শিশির কুমার ঈশ্বরসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় অংশ নেন।
সহায়তা ও প্রণোদনা উপকরণের বিবরণ
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের দুটি আলাদা কর্মসূচির আওতায় এনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই উপকরণগুলো বিতরণ করা হয়েছে:
- বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি (৩২০ জন কৃষক): পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ফলদ-বনজ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩২০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫টি করে উন্নত জাতের গাছের চারা, ২৫ কেজি করে জৈব সার এবং ৫টি করে বাঁশের খুঁটি প্রদান করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় মোট ১ হাজার ৬০০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
- খরিপ মৌসুমের প্রণোদনা (৮৫০ জন কৃষক): পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮৫০ জন কৃষকের মাঝে উন্নত জাতের লাউ, বেগুন, চালকুমড়া, পুঁইশাক, কলমি শাক, মিষ্টি কুমড়া ও শশার বীজ বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি সবজি চাষের সহায়তার জন্য প্রত্যেক কৃষককে ১৫ কেজি ডিএপি (DAP) এবং ১৫ কেজি এমওপি (MOP) সার প্রদান করা হয়।
উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষার তাগিদ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তারা বলেন, কৃষকদের ফসলের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনা, পারিবারিক পর্যায়ে পুষ্টিকর শাকসবজির চাষ সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করতেই সরকারের এই বিশেষ প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে এই সহায়তা প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা। আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ সুফলভোগী কৃষকদের হাতে সার, বীজ ও চারা তুলে দেন।
