ফুলবাড়ীতে বারমাসিয়া নদীর ভয়াল ভাঙন; বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি ও বসতভিটা
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে বারমাসিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও পৈতৃক বসতভিটা। এলাকা রক্ষার্থে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সীমান্ত ঘেঁষা নদীতে তীব্র ভাঙন
ভৌগোলিক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯২৯/৫-এস সংলগ্ন ভারতের খারিজা হরিদাস ব্রিজ থেকে নেমে আসা বারমাসিয়া নদীটি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ১ নম্বর নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোলক মণ্ডল উঁচু টারী গ্রাম হয়ে রতনাই নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষার আগমনীতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে সীমান্ত ঘেঁষা এই নদীতে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। চোখের পলকেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত শত বিঘা আবাদি জমি, ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ফলে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন নদীপাড়ের শতাধিক পরিবার।
স্থায়ী সমাধানের দাবি এলাকাবাসীর
ভিটেমাটি ও আবাদি জমি হারানো স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“প্রতিবছর পানি বাড়লেই আমাদের আবাদি জমি ও বাড়িঘর নদীতে ভেঙে যায়। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নদীগর্ভে চলে যাবে। আমরা কোনো অস্থায়ী সাহায্য চাই না, আমরা নদী শাসন করে দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই নদীভাঙন চললেও এখন পর্যন্ত টেকসই কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পুরো এলাকাটি মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
ভূমি হারানোর আশঙ্কা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুসাব্বির আলী মুসা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন—
“আমি নিজে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছি। এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি সীমান্ত অঞ্চল। এখানে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীভাঙনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ আবাদি ভূমি বিলীন হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।”
নদীভাঙনের কারণে প্রতিদিনই কমছে চাষযোগ্য আবাদি জমির পরিমাণ, গৃহহীন হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। নিজের অস্তিত্ব ও সম্পদ রক্ষার্থে অনতিবিলম্বে স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ফুলবাড়ীর নাওডাঙ্গাবাসী।
