প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টা থেকে ১২টার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক শরীফ ওসমান হাদির ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা শাহবাগ থেকে একটি মিছিল নিয়ে কারওয়ান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা লাঠিসোঁটা নিয়ে ভবনের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে এবং ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কার্যালয়ের ভেতর থেকে নথিপত্র ও আসবাবপত্র রাস্তায় বের করে এনে অগ্নিসংযোগ করে। একই সময়ে নিকটবর্তী ডেইলি স্টার ভবনেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
আটকা পড়েন সংবাদকর্মীরা
হামলার সময় দুই সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে অনেক সংবাদকর্মী ও কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ হামলায় তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ভবনের ভেতরে ও ছাদে আটকা পড়েন। ডেইলি স্টারের সংবাদকর্মীরা জানান, ভবনে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে তাঁরা ছাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, কয়েকশ লোক একত্রিত হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলাকারীদের সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
প্রেক্ষাপট
বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারকে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জনমনে যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কারওয়ান বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে বিরাজ করছে।
