পীরগঞ্জে খাস জমি উদ্ধারে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তহশিলদার নুরে আলম

মোস্তাফিজুর রহমান রুছেল, পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ও কাবিলপুর ইউনিয়নের সরকারি সম্পদ রক্ষা ও খাস জমি উদ্ধারে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তহশিলদার নুরে আলম। ভূমিদস্যুদের অবৈধ থাবা থেকে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি মুক্ত করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

৮১ একর খাস জমি উদ্ধার ও প্রক্রিয়া

সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তহশিলদার নুরে আলম চতরা ইউনিয়নের ২৪টি মৌজার মধ্যে ৩টি মৌজায় প্রায় ৫১ একর খাস জমি উদ্ধার করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। এছাড়া অবৈধ দখলে থাকা আরও প্রায় ৩০ একর জমি উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এর আগে ২০১৩ সালে টুকুরিয়া ইউনিয়নের হরনাথপুর মৌজায় ২৯ একর সরকারি জমি সফলভাবে দখলমুক্ত করেছিলেন এই কর্মকর্তা।

অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিল ও আইনগত ব্যবস্থা

ভূমি আইন অনুযায়ী নদী, বিল ও ডোবা জাতীয় নিচু জমিগুলো আইনত বন্দোবস্তযোগ্য নয়। কিন্তু ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে তৎকালীন সময়ে আইন অমান্য করে একটি প্রভাবশালী মহল এসব নিচু জমি নিজেদের নামে বন্দোবস্ত নিয়েছিল।

বর্তমান ভূমি আইন অনুযায়ী, বিধি-বহির্ভূতভাবে নেওয়া সেই সব জমি পুনরায় খাস খতিয়ানভুক্ত ও উদ্ধার করতে নুরে আলম জোরালো আইনি ভূমিকা পালন করছেন।

স্থানীয়দের প্রশংসা ও তহশিলদারের বক্তব্য

সরকারি নীতি অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে খাস জমি উদ্ধারের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও মাঠপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা নানা কারণে অনীহা দেখান। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নুরে আলমের আপসহীন অবস্থান ও তৎপরতা স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এ বিষয়ে তহশিলদার নুরে আলম বলেন—

“আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। সরকারি সম্পদ ও খাস জমি রক্ষায় আমাদের প্রতি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সততার সাথে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *