প্রদীপ কুমার সরকার, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)

একটি ছোট সেতুর অভাবে তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেবের চর গ্রামের হাজীবাড়ী এলাকার হাজারো মানুষ। ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি দীর্ঘদিনের হলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি, সরকারি কর্মকর্তাদের মাপজোক এবং গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পরও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান।
কৃষক ও শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের দুর্ভোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহেবের চর হাজীবাড়ী প্রান্তের খালের ওপারে রয়েছে প্রায় ৫০০ একর উর্বর আবাদি জমি। এসব জমিতে উৎপাদিত সোনালী ফসল ঘরে তুলতে প্রতিদিনই কৃষকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে কখনো বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়, আবার বর্ষায় পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে বুকসমান পানি পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়।
এতে কৃষকদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হয় মারাত্মক বিপাকে। অনেক সময় পানিতে ভিজে নষ্ট হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পরনের পোশাক।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও আক্ষেপ
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল ওয়াদুদ বলেন, “এই খালের ওপর একটি সেতু আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে আমরা এই দুর্ভোগ সহ্য করছি। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন, কর্মকর্তারাও এসে মাপজোক করেছেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আমরা আর আশ্বাস চাই না, দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ দেখতে চাই।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শিমুল হাজী বলেন, “একটি সেতুর অভাবে আমাদের এলাকার কৃষক, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হোক।”
ক্ষোভ প্রকাশ করে খলিল মিয়া নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পর এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা অনেকেই ভুলে যান। বছরের পর বছর ধরে আমরা একটি সেতুর জন্য অপেক্ষা করছি। আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, সেটাই এখন আমাদের প্রশ্ন। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আগে সেতুটি নির্মাণ করা জরুরি।”
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও জনপ্রতিনিধির বক্তব্য
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। অথচ একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিন যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাহেবের চর হাজীবাড়ী এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এখন সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি। প্রতিশ্রুতি নয়, এলাকাবাসী চান এর দ্রুত দৃশ্যমান বাস্তবায়ন।
এ বিষয়ে ২নং সিদলা ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান কাঞ্চন জানান, সাহেবের চরবাসীর দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে সেতুটি দ্রুত নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।