তাহাজ্জুদের নামাজের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো শিক্ষার্থী

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

আকরাম হোসেন।ছবি

তাহাজ্জুদের নামাজের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো মাদরাসার হিফজ বিভাগের এক শিক্ষার্থী। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে নোয়াখালীর চাটখিলের নোয়াখালা ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসায় এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের ফারুক হোসেনের বড় সন্তান আকরাম হোসেন (১২) ভোরে মাদরাসার অন্য শিক্ষার্থীদের সাথে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে উঠেন। নামাজের সালাম ফেরানোর পূর্ব মুহূর্তে অস্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে শুরু করেন।

এসময় পাশে নামাজে আসা শিক্ষার্থীরা তাকে কোলে তুলে মাদরাসার অন্য শিক্ষকদের ডেকে আনেন। মাদরাসার পাশের মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নিহত আকরামের মামা মাওলানা বোরহান উদ্দিনও সেখানে উপস্থিত হন। নিহত আকরামকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহপাঠি ও শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া

নিহত আকরামের সহপাঠি আব্দুল হান্নান বলেন:

“‘আমরা তার সাথে একসাথে খেলাধুলা করতাম। তাকে হারানোর পর আমাদের মধ্যে একধরনের শূন্যতা বিরাজ করছে।’

মাদরাসার শিক্ষক হাফিজ মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত বলেন:

“‘আকরাম খুবই ভালো শিক্ষার্থী ছিল। কখনো তার নামে কোনো অভিযোগ পাওয়া যেতো না। খুবই নম্র এবং ভদ্র ছিল সে।’

নিহতের মামা মাওলানা বোরহান উদ্দীন বলেন:

“‘আকরামকে বিকেল সাড়ে চারটায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাকে হারিয়ে তার বাবা-মা বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন।’

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হাফিজ মাওলানা মহিউদ্দিন বলেন:

“‘আকরাম ১৫ পারা শেষ করে ষোলো পারায় ছিলেন। খুব শীঘ্রই তার হিফজ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আমরা একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারালাম। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুক। তার পরিবারকে ধৈর্য্য ধরার তাওফীক দিক।’

চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন:

“‘এই বিষয়টি আমরা শুনেছি। তার পরিবারের তাকে নিয়ে নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন করেছেন।’

তার মৃত্যুর সময়ের একটি ভিডিও ফুটেজ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *