কোম্পানীগঞ্জে নদীভাঙনের হুমকিতে চরপার্বতীর দক্ষিণাঞ্চল, ধসের ঝুঁকিতে সংযোগ বেড়িবাঁধ
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চল আবারও ভয়াবহ নদীভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর হিংস্র রূপের সঙ্গে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ। ইতোমধ্যে বেশ কিছু পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে এবং নতুন করে হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি হারানোর চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
অতীতের ক্ষত ও স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নদীভাঙনের নির্মম যন্ত্রণা কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারেন, যারা নিজের চোখের সামনে আজন্মের স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখেছেন। ২০১২ সালের ভয়াবহ ভাঙনে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সে সময় প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের কোনো কার্যকর ভূমিকা ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণের পরও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কারণে কদমতলা-মৌলভীবাজার সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ার উপক্রম হয়। সে সময় স্থানীয় জনগণ নিজেদের অর্থ ও শ্রম দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পাইলিং করে পরিস্থিতি সামাল দেন।
“২০২৪ সালের বন্যায় মুছাপুর রেগুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন করে দুর্ভোগ শুরু হয়। ওই সময় সড়ক ও মৌলভী আব্দুর রহিম জামে মসজিদের একাংশ ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে। পরে চরপার্বতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী হানিফের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত এলাকার মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা সংগ্রহ করা হয়। সেই অর্থে বালুভর্তি বস্তা দিয়ে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে আল্লাহর রহমতে মসজিদ ও সড়কটি রক্ষা পায়।”
বর্তমান পরিস্থিতি ও বেড়িবাঁধের ভয়াবহ ঝুঁকি
চলতি বছরের শুরু থেকে মৌলভীবাজার এলাকার দক্ষিণ পাশের নদী তীরে আবারও নতুন করে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার তাদের শেষ সম্বল বসতঘর হারিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যেকোনো সময় এলাকার মূল সংযোগ বেড়িবাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই বেড়িবাঁধটি একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো এলাকা পুরোপুরি অরক্ষিত হয়ে পড়বে এবং বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবে।
দ্রুত সরকারি বরাদ্দ ও সমন্বিত উদ্যোগের দাবি
এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, সংসদ সদস্যের বরাদ্দ এবং উপজেলা প্রশাসনের বরাদ্দকৃত অর্থ যথাসময়ে ছাড় করে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করতে হবে। তা না হলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা মনে করেন, নদী রক্ষার কাজে পূর্ব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনার ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মুছাপুর রেগুলেটরের স্থায়ী সমাধানমূলক প্রকল্প এখনো সরকারি অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করছে। ফলে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে আরও দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে জরুরি আপদকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এই অবস্থায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চরপার্বতীকে রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং নদীভাঙন কবলিত হাজারো মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
