ইলিয়াস আলীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে: ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) গুম ও খুনের অভিযোগে সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ভয়াবহ নৃশংসতার বর্ণনা

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ১০০-এর বেশি মানুষকে গুম করার পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশের পেট ফেড়ে নাড়িভুঁড়ি বের করে এবং সিমেন্টের বস্তা বেঁধে লাশগুলো গুম করার চেষ্টা করা হতো।

তিনি আরও জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে এই মৃতদেহগুলো কখনো বরগুনার বলেশ্বর নদীতে, কখনো সুন্দরবনে, আবার কখনো শীতলক্ষ্যা বা বুড়িগঙ্গায় ডুবিয়ে দেওয়া হতো যাতে কেউ কোনো প্রমাণ না পায়।

জিয়াউল আহসানের কর্মজীবন ও সংশ্লিষ্টতা

তদন্ত প্রতিবেদনে জিয়াউল আহসানের দীর্ঘ কর্মজীবনের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া জিয়াউল আহসান ২০০৯ সালে মেজর থাকাকালে র‍্যাব-২-এর উপ-অধিনায়ক হন। পরবর্তীতে র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক এবং ২০১৩ সালে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হন। ২০১৬ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হওয়ার পর তিনি এনএসআই-এর পরিচালক এবং ২০১৭ সালে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) পরিচালক হন। ২০২২ সালে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি সংস্থাটির মহাপরিচালক হন।

ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত ৬ আগস্ট তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন হত্যা ও গুমের মামলার অভিযোগে আটক রয়েছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়

দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ভাগ্য নিয়ে তদন্ত সংস্থার এই আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত সংস্থার এই দাবি সত্য প্রমাণিত হলে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গণ্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *