‘উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জোর করেই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

স্থানীয় সরকার ও যুব-ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ‘জোর করেই আমাকে কুমিল্লার দায়িত্ব দিয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মতিন

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিন মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ আমার দেশ প্রতিনিধির কাছে এসেছে।

নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য

আবদুল মতিন সভায় বলেন, “আপনাদের সবার সামনে আমার বক্তব্যের যে বিষয়টা সেটা হলো আপনাদের সবার কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করা। ২০ বছরের মতো আমি কুমিল্লা জেলার বাহিরে কাজ করেছি। ২০ বছর পরে কুমিল্লা জেলায় কাজ করার সুযোগ হয়েছে। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একরকম জোর করেই আমাকে কুমিল্লা জেলার দায়িত্ব দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমি দেখলাম যে কুমিল্লা জেলায় এলজিইডিতে দেড় হাজার ঠিকাদার আছে, কিন্তু কাজ হয় না। বেশিরভাগ কাজ বন্ধ। কিছু কাজ ধীরগতিতে হয়। আবার কিছু কাজের কোয়ালিটি খারাপ। আমি একটা কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম। তথ্য নেওয়া শুরু করলাম। কাজ খারাপ হলে জরিমানা করা শুরু করলাম।”

দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “আমি তিতাসে একটি ব্রিজের পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানে কাজ খারাপ হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী এবং ঠিকাদার মিলে ওই ব্রিজটি ঢালাই করে ফেলেছিল কিন্তু আমি জানতাম না। আপনারা জানেন আমাদের ঠিকাদাররা অনেক পাওয়ারফুল। ভাঙ্গা অনেক কঠিন কাজ। তারা অনেক রকমের চেষ্টা করল। আমার সার্থকতা হলো ব্রিজটি আমি ভাঙতে পেরেছি।”

মুরাদনগরের একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এক আত্মীয় ঠিকাদার। উনিও অফিসকে না জানিয়ে কাজের ঢালাই করে ফেলেছিলেন। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “এমন অনেক অনিয়ম হচ্ছে।”

আলোচনা সভার অন্যান্য বক্তা

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খাঁন, সচেতন নাগরিক কমিটির অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায়, এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক মো. নাজমুল হাসান

যোগাযোগের চেষ্টা ও পূর্বের অভিযোগ

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জোর করেই তাঁকে কুমিল্লার দায়িত্ব দিয়েছেন—এই বিষয়ে জানতে কুমিল্লা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মতিনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উল্লেখ্য, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে গত ২ ডিসেম্বর কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে কুমিল্লা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মতিনের অপসারণের দাবিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, অতিমাত্রায় ঘুষ না দিলে চলমান বিভিন্ন রাস্তা ও ব্রিজের কাজের বিল আটকে রাখেন আবদুল মতিন। ফলে অনেক কাজ মাঝপথে থেমে থাকার কারণে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *