সর্বত্র রাজনৈতিক বিভেদের কারণে সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে: অ্যাটর্নি জেনারেল
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

সর্বত্র রাজনৈতিক বিভেদের কারণে দেশের সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এখন গ্রাম এলাকায় বিয়ে দিতে গেলেও চিন্তা করে আওয়ামী লীগ না বিএনপি, জামায়াত না বিএনপি।
আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘একটি কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রবর্তন’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।
রাজনৈতিক বিভেদ ও বৈষম্য
অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, সব খাতে রাজনৈতিক বৈষম্য এবং বিভেদের কারণেই আজ দেশের সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে।
- সামাজিক সম্পর্কের অবনতি: তিনি বলেন, “আগে একজন রাজনৈতিক কর্মী সারা দিন মিছিল করে এসে ভিন্ন মতের মানুষের সঙ্গে এক টেবিলে বসে চা খেতেন, আলোচনা করতেন। তাঁরা একে অপরের সঙ্গে সুখ-দুঃখের গল্প করতেন। এখন গ্রাম এলাকায় গেলে দেখা যায়, বিয়ে দিতে গেলেও চিন্তা করে আওয়ামী লীগ না বিএনপি, জামায়াত না আওয়ামী লীগ। এই বিভেদ সব সীমারেখাকে অতিক্রম করে সামাজিক সম্পর্ককে নষ্ট করেছে এবং দেশকে অন্ধকারে ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
- বৈষম্যবিরোধী আইনের সমালোচনা: সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব ধরনের বৈষম্য নিরোধে সরকার বৈষম্যবিরোধী আইন, ২০২২–এর খসড়া প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল খসড়ার এই আইনের বৈষম্যের সংজ্ঞাকে সমর্থন করতে পারছেন না। তিনি বলেন, “এখানে বৈষম্যবিরোধিতার কথা বলতে গিয়ে কিছু ক্যাটাগরি (শ্রেণি) করা হয়েছে। আইনের মাধ্যমে বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে।“
সাংবিধানিক ত্রুটি ও নারী জাগরণ
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়াকে মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। “একজন মানুষ জন্ম নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে বাংলাদেশের নাগরিক, সে একজন মানুষ—এই তত্ত্বে এগোতে হবে।” তিনি মনে করেন, মানুষকে পঙ্গু মানুষ, অসহায় মানুষ, পিছিয়ে পড়া মানুষ, নারী মানুষ—এই শ্রেণিবিভেদের মধ্যে রাখলে সমস্যার সমাধান হবে না; বরং এটি সমাজের বিভেদ তৈরি করবে।
তিনি সংবিধানের মূল নীতির বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব যখন নির্ধারণ করা হচ্ছে, ছয়ের এক অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে ভূখণ্ডের ভিত্তিতে সবাই বাংলাদেশি। আবার দুইয়ে বলা হলো বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী নামে পরিচিতি লাভ করা হবে। “তাহলে যাঁরা সাঁওতাল, যাঁরা ম্রো সম্প্রদায়, অন্য ভাষাভাষী; তাঁদের ক্ষেত্রে এখানে বৈষম্য করা হচ্ছে।”
নারীজাগরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীর প্রতি বৈষম্য যতক্ষণ পর্যন্ত নিরসন না হবে; যে দল তার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে, নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর প্রতি বৈষম্য বন্ধে কার্যকর কোনো প্রতিশ্রুতি না করবে, নির্বাচনের আগেই সরকারকে অধ্যাদেশ (বৈষম্যবিরোধী আইনের) করতে বাধ্য না করবে; তাদের ভোট দেবেন না।
নাগরিক সংলাপে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। এতে আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
