কুমিল্লায় হোগলাপাতার পরিবেশবান্ধব পূজামণ্ডপ, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা
আবদুর রহমান, কুমিল্লা।

কুমিল্লা নগরের দিগম্বরীতলা এলাকার শ্রীশ্রী গুপ্ত জগন্নাথমন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের মণ্ডপ হোগলাপাতা দিয়ে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে। এতে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। মঙ্গলবার রাতে তোলাছবি
কুমিল্লা শহরের দিগম্বরীতলার শ্রীশ্রী গুপ্ত জগন্নাথমন্দির-এর পূজামণ্ডপ এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নান্দনিক সাজে সজ্জিত হয়েছে। ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে শারদীয় দুর্গোৎসব হলেও, এবারের পরিবেশবান্ধব আয়োজনটি নজর কেড়েছে সবার।
মণ্ডপটির মূল আকর্ষণ হলো হোগলাপাতার পাটি দিয়ে সাজানো পুরো কাঠামো। এর মাঝে বাঁশ আর বেত দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন সজ্জা। মাটির টেরাকোটার শিল্পকর্ম মণ্ডপের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়েছে। দর্শনার্থীরা এই ব্যতিক্রমী মণ্ডপের ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ করছেন।

বাঁশ আর বেত দিয়ে বানানো হয়েছে বিভিন্ন সাজ। মণ্ডপের বিভিন্ন স্থানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে মাটির টেরাকোটার শিল্পকর্ম, যা সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়েছে
ছবি:
কেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ?
দিগম্বরীতলার জগন্নাথমন্দিরের পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যরা জানান, পরিবেশবান্ধব মণ্ডপ তৈরির ইচ্ছা থেকেই তাঁরা এই ভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। সাধারণত জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জার জন্য বিপুল পরিমাণ সিনথেটিক ও প্লাস্টিক উপকরণ ব্যবহৃত হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সেই ভাবনা থেকেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়েছে।
- উপাদান: ব্যবহৃত হয়েছে গ্রামীণ জীবনের পরিচিত উপাদান, যার বেশির ভাগই খুলনা থেকে আনা হোগলাপাতার পাটি, বাঁশ ও বেত।
- কারিগরি: এই মণ্ডপের ‘আইডিয়া’ আসে কমিটির সাধারণ সম্পাদক পিন্টু বণিকের ছেলে অনিন্দ বণিক-এর মাথা থেকে। তিনি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাতজন শিক্ষার্থী মিলে ২৫ দিন কাজ করে এটি সাজিয়ে তুলেছেন।

কুমিল্লা নগরে এবার ৬৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নান্দনিক সাজের কারণে জগন্নাথমন্দিরের দুর্গাপূজা ব্যতিক্রমী এক আবহ তৈরি করেছে
ছবি:
সচেতনতার বার্তা
দর্শনার্থী হ্যাপি কর্মকার বলেন, “এবারের পূজায় কুমিল্লার অনেক মণ্ডপ ঘুরেছি… তবে দিগম্বরীতলার জগন্নাথ মন্দিরে এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। হোগলাপাতা দিয়ে নান্দনিকতার যে সাজে মণ্ডপটিকে সাজানো হয়েছে, তা সত্যিই অনন্য।”
দর্শনার্থী জীবন সাহা বলেন, “এ উদ্যোগ শুধু নান্দনিকতাই নয়, সচেতনতারও বার্তা দিচ্ছে। দেশীয় ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন ও পরিবেশ রক্ষার আহ্বান মিলেছে একই মঞ্চে।”
কুমিল্লা মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য দাশ বলেন, কুমিল্লায় অতীতে এভাবে মণ্ডপ তৈরি হতে দেখা যায়নি। দিগম্বরীতলার মণ্ডপটি সবার কাছে অনন্য মনে হয়েছে। এই মণ্ডপের শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং পরিবেশবান্ধব বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে।
