ভাঙ্গায় বিএনপির সভা থেকে ‘কথিত’ সাংবাদিক বহিষ্কার; সব কর্মসূচিতে বয়কটের ঘোষণা

বিশেষ প্রতিনিধি

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিএনপির মতবিনিময় সভা থেকে মো. শহিদুল ইসলাম নামের এক ‘কথিত’ সাংবাদিককে বের করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা ও জিয়া পরিবারবিরোধী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে বিএনপি ও স্থানীয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাঁকে বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

​গত শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের ভাঙ্গা উপজেলা কার্যালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।

পরিচিতি পর্বে বিতর্ক ও অতীত অভিযোগ

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিচয় পর্ব চলাকালে মো. শহিদুল ইসলাম নিজেকে ‘দৈনিক প্রলয়’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর পরিচয় পাওয়ার পরপরই সভায় উপস্থিত সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

​উপস্থিত নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে শহিদুল ইসলাম সরাসরি জড়িত ছিলেন। সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য ও ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ময়মনসিংহে মামলা হলে পিবিআই (PBI) তদন্ত শেষে শহিদুলসহ ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

১১টি মামলা ও আইনি জটিলতা

​সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা জানান, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৩টি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ২টিসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে।

সভা থেকে বের করে প্রদান ও বয়কট

​এসব গুরুতর অভিযোগ শোনার পর সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল সভাস্থলে তাঁর উপস্থিতিতে আপত্তি জানান এবং তাঁকে বের হয়ে যেতে বলেন। পরে তাঁকে সভাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

​ঘটনার পরপরই ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম বিএনপির সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচিতে শহিদুল ইসলামকে বয়কটের ঘোষণা দেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

​এদিকে, এ ঘটনায় গতকাল ভাঙ্গা থানায় শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙ্গায় কর্মরত স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকেও তাঁকে পেশাগতভাবে বয়কট করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *