এসএসসিতে পাসের হার মাত্র ৩৩%; খালিয়াজুরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ইউএনও’র আকস্মিক পরিদর্শন, চরম হতাশা প্রকাশ
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরী সদরের ঐতিহ্যবাহী খালিয়াজুরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। পাসের হার মাত্র ৩৩.৩৩ শতাংশে নেমে আসায় শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১০টায় খালিয়াজুরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সারপ্রাইজ ভিজিট (আকস্মিক পরিদর্শন) পরিচালনা করেন খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অলিদুজ্জামান।
ফলাফল বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্র
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুরী উপজেলার ১৩টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে সদরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র ৬৬ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে, আর অকৃতকার্য হয়েছে ১৩২ জন। এতে বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩.৩৩ শতাংশ।
শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ইউএনও’র ক্ষোভ ও অসন্তোষ
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অলিদুজ্জামান জানান, আকস্মিক পরিদর্শনের সময় শিক্ষক ও কর্মচারীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক থাকলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত নগণ্য ও হতাশাজনক।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
”ফলাফল প্রকাশের এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরও শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ বা দায়িত্ববোধ দেখা যায়নি। তারা এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে কোনো মতবিনিময় সভার আয়োজন করেননি। পাশাপাশি অন্যান্য শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের অস্বাভাবিক কম উপস্থিতির বিষয়েও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
লেখাপড়ার মান উন্নয়ন ও শ্রেণীকক্ষে উপস্থিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্রুত অভিভাবক সমাবেশ ডাকার নির্দেশ প্রদান করেন ইউএনও। এ ছাড়া পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণের ওপর অচিরেই একটি লিখিত প্রতিবেদন (রিপোর্ট) বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য ও সাফাই
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে খালিয়াজুরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন—
”ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমাদের বিদ্যালয়ে পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় এবং নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় যারা পাস করতে পারেনি, অভিভাবকদের বিশেষ অনুরোধে তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হয়েছিল। মূলত এ কারণেই পাসের হার এতটা কমে গেছে।”
তিনি আরও জানান, অচিরেই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও পাসের হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ করা হবে এবং আগামী এসএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
