১৫ বিজিবির মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান; সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ট্যাবলেট ও সিরাপ জব্দ
মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী এক কঠোর অবস্থান ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইয়াবা, ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট এবং ইস্কাফ সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি টহলদল। বুধবার (০১ জুলাই) সীমান্ত এলাকার পৃথক তিনটি স্থানে এই অভিযানগুলো চালানো হয়।
তিন বিওপির পৃথক অভিযান
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত গলে বিপুল পরিমাণ মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছে—এমন সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে গংগারহাট, অনন্তপুর ও দিঘলটারী বিওপির (Border Outpost) তিনটি বিশেষ টহলদল একযোগে সক্রিয় অবস্থান নেয়।
কৌশলগত এই অভিযানসমূহ নিম্নোক্ত সময় ও স্থানে পরিচালিত হয়:
- বিকেল ৫:০০ টা: গংগারহাট বিওপির আওতাধীন উত্তর বিদ্যাবাগিস এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালানো হয়।
- রাত ৮:৩০ মিনিট: দিঘলটারী বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাটের আদিতমারী থানার শ্মশানঘাট এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি সফল করা হয়।
- রাত ১২:৪০ মিনিট (গভীর রাত): অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানার ভেন্নিরতল এলাকায় চূড়ান্ত অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে টহলরত বিজিবি সদস্যরা কয়েকজন সন্দেহভাজন চোরাকারবারির গতিবিধি লক্ষ্য করে তাদের ধাওয়া দেন। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এবং টহলদলের তীব্র তাড়া খেয়ে চোরাকারবারিরা তাদের সঙ্গে থাকা মাদকের বস্তা ও প্যাকেটগুলো ফেলে রেখেই অন্ধকারের সুযোগে দ্রুত কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলগুলো থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভারতীয় মাদকসমূহ উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত মাদকের বিবরণ ও সিজার মূল্য
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধিনায়কের কার্যালয় থেকে জব্দকৃত মাদকের একটি আনুমানিক বাজারমূল্য (সিজার মূল্য) তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে:
| মাদকের নাম | পরিমাণ | সিজার মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| ভারতীয় ইয়াবা | ৩৮২ পিস | ১,১৪,৬০০/- |
| ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট | ৫৬০ পিস | ৫৬,০০০/- |
| ইস্কাফ সিরাপ | ৫০ বোতল | ২০,০০০/- |
| সর্বমোট মূল্য | ১,৯০,৬০০/- |
বিজিবি জানিয়েছে, এই মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ও মূল হোতাদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির কঠোর হুঁশিয়ারি
অভিযানের বিষয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বিজিবির কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন—
“দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের চোরাচালান, মাদক পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইনের মতো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে। আমাদের দেশের যুবসমাজকে মাদকের এই মারাত্মক ও মরণঘাতী থাবা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সীমান্ত পাহারা ও তল্লাশিতে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখছে।”
তিনি আরও জানান, অপরাধ প্রবণতা রুখতে সীমান্তের স্পর্শকাতর (Vulnerable) পয়েন্টগুলোতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এবং রাত্রিকালীন বিশেষ টহলের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং দেশের অর্থনীতি সুরক্ষায় এ ধরনের মাদকবিরোধী ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
