ময়মনসিংহে গুজব প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠানের করণীয় শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহে গুজব প্রতিরোধ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুসরণে তথ্য পরিবেশনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের করণীয় বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক তথ্য অফিসের আয়োজনে অফিসের নিজস্ব সম্মেলনকক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

আঞ্চলিক তথ্য অফিস, ময়মনসিংহের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) মো. মাসুদ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড বিভাগীয় কার্যালয়, ময়মনসিংহের পরিচালক (উপসচিব) ড. মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ এবং ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাইয়ুম।

এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ও তথ্যের উৎস যাচাই

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ময়মনসিংহ আইসিটি অধিদপ্তরের প্রোগ্রামার মো. জাহিদুল ইসলাম। বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্য যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন—

“তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কিছু প্রচার করা হলে তা দ্রুত গুজবে পরিণত হতে পারে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে নিখুঁত ভুয়া ছবি, ভিডিও ও তথ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এই বাস্তবতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে।”

তিনি তথ্যের সঠিক উৎস যাচাই, সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল তথ্য প্রচারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সংযম ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা

সেমিনারে জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ বলেন, গুজব প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও তথ্য যাচাই অত্যন্ত জরুরি। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রচার করা কোনোভাবেই উচিত নয়। বিশেষ করে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষকে নানা বিষয়ে প্ররোচিত করা হয়, তবে নিজেকে সংযত রাখতে পারলে অনেক বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাইয়ুম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সঠিক তথ্যের অভাব বা ইনফরমেশন গ্যাপ থেকেই অধিকাংশ গুজবের জন্ম হয়। তিনি বলেন—

“সমাজে কিছু অসাধু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করে। মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত তথ্যের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ কাজ করায় এগুলো দ্রুত ছড়ায়। তাই গুজব মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ, কেন্দ্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চার ওপর জোর দিতে হবে।”

মুক্ত আলোচনা ও সমাপনী বক্তব্য

মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে গুজব ছড়ানোর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের মধ্যে ‘তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি’ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরসমূহকে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে জনমনের বিভ্রান্তি দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. মাসুদ মিয়া বলেন, সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত মুখপাত্র (Spokesperson) অথবা লিখিত বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা প্রয়োজন। এতে ভুল বা আংশিক তথ্য ছড়ানোর সুযোগ অনেকটাই কমে যায়।

সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং আঞ্চলিক তথ্য অফিস ময়মনসিংহের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *