মো. ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার নয়াপাড়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে এগ্রোইকোলজি চর্চা বিষয়ক একটি অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার বনবেড়া, কচুগড়া, গোবিন্দপুর, ভাসানকুড়া ও বগাডুবি গ্রামের ১০ জন উদ্যোগী কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল এগ্রোইকোলজি ভিত্তিক আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা সম্পর্কে সরাসরি দেখা, শেখা এবং নিজ নিজ এলাকায় তা প্রয়োগের সম্ভাবনা অন্বেষণ করা।
বিভিন্ন কৃষি চর্চা ও পদ্ধতি পরিদর্শন
সফরকালে অংশগ্রহণকারীরা নয়াপাড়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় কৃষি চর্চা প্রত্যক্ষ করেন। এর মধ্যে ছিল বস্তা পদ্ধতি, বেজা পদ্ধতি, চাঙবেড পদ্ধতি ও মাচা পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষ; সেলাইন ও সলতা পদ্ধতিতে সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থা; জৈব কৃষি চর্চায় কেঁচো কম্পোস্ট (ভার্মিকম্পোস্ট), কিচেন জুস ও গর্ত কম্পোস্টের ব্যবহার এবং বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুতকৃত প্রাকৃতিক ও জৈব বালাইনাশকের প্রয়োগ।
এছাড়া লার্নিং সেন্টারের ‘কমিউনিটি বীজ ব্যাংক’ পরিদর্শন করেন তারা, যেখানে ‘আফসান কৃষক-কৃষাণী সংগঠন’-এর সদস্যরা একত্রিত হয়ে বৈচিত্র্যময় দেশীয় জাতের ধানবীজ এবং বিভিন্ন ধরনের মৌসুমভিত্তিক শাকসবজির বীজ সংরক্ষণ ও নিজেদের মধ্যে বিনিময় করে থাকেন।
অভিজ্ঞতা সহভাগিতা সভা
পরিদর্শন শেষে একটি অভিজ্ঞতা সহভাগিতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী কৃষক-কৃষাণীরা তাঁদের অনুভূতি ও অর্জিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনেকেই জানান যে— বেজা পদ্ধতি, চাঙবেড পদ্ধতি, মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ, সেলাইন ও সলতা পদ্ধতিতে সেচ এবং কেঁচো কম্পোস্ট ও কিচেন জুস তৈরির কৌশলগুলো তাঁদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। এই পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক পদ্ধতিগুলো তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় দ্রুত প্রয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বারসিক-এর সহযোগিতা ও মূল্যায়ন
সার্বিক সফরসূচি ব্যবস্থাপনায় কারিগরি ও মাঠপর্যায়ে সহায়তা করেছে কলমাকান্দা বারসিক (BARCIK) রিসোর্স সেন্টার। বারসিক-এর উপজেলা সমন্বয়কারী গুঞ্জন রেমা জানান, এ ধরনের বাস্তবমুখী আয়োজন মাঠপর্যায়ের কৃষি সেবার মান বাড়াতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকশিত করতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। আজ বুধবার (১৭ জুন) এই সফল অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরটি সমাপ্ত হয়।