ফুলবাড়ীতে ঈদ সামনে, তবুও কাজ নেই কামারদের হাতে: দুশ্চিন্তায় কারিগররা

মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র তিন দিন বাকি। সাধারণত এই সময়ে কামারপাড়াগুলোতে কোরবানি সরঞ্জাম তৈরির টুংটাং শব্দে কান পাতা দায় হতো। কিন্তু এবার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কামারপট্টিগুলোতে সেই চিরচেনা ব্যস্ততা একেবারেই উধাও। কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর সরঞ্জাম তৈরির ভরা মৌসুমেও অনেক কামার দিন কাটাচ্ছেন চরম হতাশা, লোকসান আর দুশ্চিন্তায়।

কামারপট্টিগুলোতে সুনসান নীরবতা

উপজেলার ফুলবাড়ী সদর, বালারহাট ও গঙ্গারহাট এলাকার বিভিন্ন কামারপট্টি ঘুরে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। কোথাও অলস সময় পার করছেন কারিগররা, আবার কোথাও দুই-একজন গ্রাহকের টুকটাক ছোটখাটো কাজ চলছে। আগের বছরগুলোর মতো নতুন দা, চাপাতি, ছুরি ও বঁটি তৈরির অর্ডার না থাকায় ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নেমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

গত রবিবার গঙ্গারহাট বাজারের কয়েকটি কামারের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার আটটি দোকানের মধ্যে মাত্র এক-দুটি দোকানে সামান্য কাজ হচ্ছে। তবে সেগুলো কোরবানির কোনো সরঞ্জাম নয়; কেউ খেত থেকে ধান কাটার কাচি (কাস্তে) ধার করছেন, আবার কেউ বিল্ডিং নির্মাণকাজের লোহার ক্ল্যাম্প বানিয়ে সময় পার করছেন।

কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও তৈরি সরঞ্জামের দরদাম

স্থানীয় কামাররা জানান, কয়লা ও লোহাসহ সব ধরণের কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এর ওপর বাজারে আধুনিক ও রেডিমেড যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের তৈরি দেশীয় সরঞ্জামের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়ের যে একটা বড় আশা ছিল, তা এবার ভেস্তে যেতে বসেছে।

বর্তমানে বাজারে কামারদের কাজের ও তৈরি সরঞ্জামের মূল্যতালিকা:

  • পুরনো দা বা বঁটি ধার দেওয়া: ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
  • গরু জবাইয়ের বড় ছুরি (১৬-১৮ ইঞ্চি): তৈরি ও লোহাভেদে ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকা।
  • চাপাতি বিক্রি: ৬০০ থেকে ১,০০০ টাকা।
  • ছোট চাকু (চামড়া ছাড়ানোর): ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

কারিগরদের দাবি, জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় বাজারে একদমই ক্রেতা নেই। গঙ্গারহাট বাজারের একজন প্রবীণ কামার আক্ষেপ করে বলেন, “মনে হচ্ছে এবার আমাদের জন্য কোরবানির ঈদই হবে না। ঈদের আগে সাধারণত মানুষ দা-ছুরি বানাতে দোকানে ভিড় জমাতো, আমাদের দম ফেলার সময় থাকতো না। আর এবার সারাদিন আগুনে হাওয়া দিয়ে বসে থেকেও তেমন কোনো কাস্টমার পাওয়া যাচ্ছে না।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *