কলমাকান্দায় ঘর হারিয়ে নিস্ব মনোয়ারা বেগমকে নতুন বাড়ি তৈরি করে দিলেন ডেপুটি স্পিকার
মো: ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়া মনোয়ারা বেগমের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের বড়খাপন গ্রামে ডেপুটি স্পিকারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত নতুন ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোয়ারা বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মাথা গোঁজার নতুন ঠাঁই পেয়ে আনন্দে ও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এই অসহায় নারী।
ঝড়ের তাণ্ডব ও মনোয়ারা বেগমের করুণ ইতিহাস
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল এলাকায় বয়ে যাওয়া এক ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ৫৯ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগমের একমাত্র বসতঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। স্বামীহারা এই নারী ৫ বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর একমাত্র পুত্র সন্তানকেও হারান। ঝড়ে শেষ সম্বল ঘরটি হারিয়ে একপ্রকার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি।
ফেসবুক থেকে নজর কাড়ে প্রশাসন ও ডেপুটি স্পিকারের
মনোয়ারা বেগমের এই চরম দুর্দিনের কথা জানতে পেরে গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুর রশিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর অসহায় অবস্থার একটি ভিডিও ও চিত্র তুলে ধরেন। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি’র নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে মনোয়ারা বেগমের খোঁজখবর নেন এবং সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি মজবুত নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে চমৎকার একটি নতুন ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয় এবং আজ তা ঈদ উপহার হিসেবে মনোয়ারা বেগমের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নতুন ঘর পেয়ে চোখের জল ও দোয়া
নতুন ঘরের চাবি ও মালিকানা বুঝে পেয়ে মনোয়ারা বেগম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“ঝড়ে যখন আমার থাকার শেষ ঘরটা ভেঙে গেল, আমি পুরা দুনিয়া অন্ধকার দেখতাছিলাম। কোথায় থাকবো, কার দুয়ারে দাঁড়াবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এই কষ্টের দিনে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার মহোদয় আমারে নতুন ঘর করে দিয়া মায়ের মতো আশ্রয় দিলেন। আমি তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে দোয়া করি।”
ঘর হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ঘর হস্তান্তর শেষে মনোয়ারা বেগমের সুখ-শান্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
উপজেলার সচেতন নাগরিক ও স্থানীয়রা জানান, একজন নিস্ব ও আশ্রয়হীন নারীর পাশে দাঁড়িয়ে ডেপুটি স্পিকার যে দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা সমাজে বিত্তশালীদের জন্য একটি দারুণ ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
