দুটি আম পাড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন শিশুকে অমানুষিক নির্যাতন, অভিযুক্ত পলাতক
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ছাদকৃষির গাছ থেকে মাত্র দুটি আম পাড়াকে কেন্দ্র করে মো. আবদুল্ল্যাহ (১২) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন শিশুকে অমানবিকভাবে মারধর ও রাতভর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুরে শিশুটির শরীরে নির্যাতনের তীব্র চিহ্নের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসটার্মিনাল এলাকার একটি ভবনে এই বর্বর ঘটনা ঘটে।
ছাদ থেকে আম পাড়ায় রাতভর বর্বরতা
ঘটনাটি ঘটেছে বসুরহাট বাসটার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত সাবেক ডিসি ইসমাইলের ভবনের চারতলায়। অভিযুক্ত মো. নুরনবী (৬২) উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে। তিনি ভবনের মালিক সাবেক ডিসি ইসমাইলের ভায়রা এবং ওই ভবনটির সার্বিক দেখভালের দায়িত্বে (কেয়ারটেকার) ছিলেন।
বসুরহাট পৌরসভা ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মাইনুল ইসলাম নাঈম জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশু আবদুল্ল্যাহ ভবনের ছাদে উঠে ছাদকৃষির একটি আমগাছ থেকে দুটি আম পাড়ে। এটি দেখে নুরনবী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে লাঠি ও রশি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। শুধু তাই নয়, গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যে শিশুটিকে একটি কক্ষে রাতভর আটকে রেখে দফায় দফায় নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
এলাকাবাসীর আদরের শিশু আবদুল্ল্যাহ
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস আগে এই মানসিক ভারসাম্যহীন শিশু আবদুল্ল্যাহ বসুরহাট বাসটার্মিনাল এলাকায় এসে আস্তানা গড়ে। সে কোনো ক্ষতি করত না বিধায় এলাকার কয়েকজন যুবক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মিলে পরম স্নেহে শিশুটির খাবার ও দেখাশোনা করে আসছিলেন। একটি অবুঝ ও ভারসাম্যহীন শিশুর ওপর এমন নির্মম অত্যাচার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত আত্মগোপনে, আইনি ব্যবস্থার দাবি
শনিবার দুপুরের পর থেকে শিশুটির পিঠ, হাত ও পায়ে লাঠির আঘাত এবং কালশিটে পড়ার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী নুরনবীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এই অমানুষিক নির্যাতনের বিষয়ে অভিযুক্ত নুরনবীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মারধরের ছবি ও বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই তিনি ভবন ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।
