ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে ভারতে মাদারগঞ্জের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা, ছড়িয়েছে মৃত্যুর গুজব
আনিছুর রহমান আইয়ুব, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

ভারতে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অত্যন্ত আবেগঘন ও বিদায়ী স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মোস্তাক আহমেদ (সাগর) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ। বর্তমানে তাঁর সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে; এলাকায় কেউ বলছেন তিনি মারা গেছেন, আবার কারো মতে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকে তাঁর গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের মাঝে চলছে শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ।
শিক্ষার্থীর পরিচয়
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম মোস্তাক আহমেদ (সাগর)। তিনি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারি বাজারের বিশিষ্ট পল্লি চিকিৎসক মোশারফ হোসেন মিন্টুর ছেলে। তিনি পড়াশোনা বা অন্য কোনো কারণে ভারতে অবস্থান করছিলেন।
ফেসবুকে দেওয়া সাগরের শেষ বার্তা
আত্মহত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে মোস্তাক আহমেদ সাগর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ ও মর্মস্পর্শী স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। পাঠকদের জন্য তাঁর সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
“মা বাবা আমায় মাফ করিও। নিজেকে অনেক বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করলাম অবশেষে আজ আমি ক্লান্ত এবং চলে যাচ্ছি খোদার কাছে।
ঘরে ফিরে হয়তো বিজয় উদযাপন করতে পারলাম না, কি দুর্ভাগ্য আমি। দেশের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি জানি না। আমি শুধু আপনাদের কাছে দোয়া চেয়ে গেলাম। ভুল করে থাকলে মাফ করবেন।
জীবনে একটা চাওয়া খোদার কাছে প্রতিটা সময় চেয়েছি পেয়েও পায়নি। রাখার চেষ্টা করেও রাখতে পারিনি। আমি এতোটাই হতভাগা হয়ে জন্ম নিয়েছিলাম।
ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষটি, তার হাতে হয়তো হাত রেখে বেঁচে থাকার স্বপ্নটা পুরন হলো না। কতো করে বুঝিয়েছি হলোই না। তাকে কথা দিয়েছিলাম হয় তুমি নয় মৃত্যু। তাকে কথা দেওয়াটা পুরন করে তাকে মুক্তি দিলাম। তাকে কেউ দোষারোপ করবেন না, তাকে বাঁচতে দিয়েন আমার জন্য হলেও।
আর হ্যাঁ আমাকে যেনো পোষ্ট-মর্ডান (ময়নাতদন্ত) না করা হয়, কারণ সে কষ্ট পাবে। আমাকে পারলে ঝামেলাহীন দাফন করে দিয়েন।
কবরের দেওয়ালে লিখে দিয়েন ‘হতভাগা’। ভালো থেকো তুমি, তোমায় দেওয়া কথা পুরন করলাম। কান্না করবে না বুঝছো৷ তোমার কান্না আমার সহ্য হয় না৷ তুমি আমার জন্য দুআ কইরো।”
এলাকায় শোকের ছায়া ও স্বজনদের আহাজারি
ব্যক্তিগত জীবনে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং কাঙ্ক্ষিত মানুষকে না পাওয়ার মানসিক যন্ত্রণা থেকেই সাগর এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে ফেসবুক স্ট্যাটাসটি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ফেসবুক পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাদারগঞ্জের স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সাগরের মৃত্যুর খবর বা আশঙ্কাজনক অবস্থার কথা জানতে পেরে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ছেলের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক পরিণতির কথা শুনে স্বজনদের আহাজারিতে ঘুঘুমারি এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বন্ধুদের মাধ্যমে সাগরের প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
