বৃষ্টিতে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়েছে ধান, পচা ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষক
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওরবেষ্টিত উপজেলা খালিয়াজুরিতে টানা সাত দিনের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মাঠ থেকে কেটে আনা ধানের স্তূপে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ ফসল। বর্তমানে রোদ ওঠায় পচা ধান ও খড় শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
পরিবেশ দূষণ ও কৃষকের হাহাকার
টানা বৃষ্টিতে ভিজে মাঠের ধানে পচন ধরায় এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিবেশকে দূষিত করছে। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা মাঠ এবং সরকারি রাস্তার ওপর পচা ধান ও খড় শুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন কৃষকরা। নূরপুর বোয়ালী গ্রামের কৃষক আহসানুল হক ও মোফাজ্জল মিয়া জানান, তাঁদের আবাদকৃত জমির ৫০ শতাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। চারা গজিয়ে যাওয়ায় এই ধান এখন ব্যবহারের অনুপযোগী প্রায়।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন, সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্টু, জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. ইসমাইল হোসেন এবং কৃষক দল সেক্রেটারি পাণ্ডব সরকার যৌথভাবে জানান, এ বছর খালিয়াজুরিতে প্রায় ৫৫% থেকে ৬০% ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তাঁরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকার তিন মাসের খাদ্য সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তালিকা তৈরি করছে।
কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, খালিয়াজুরির ২০ হাজার ২৩২ হেক্টর বোরো জমির মধ্যে ১১ হাজার ৩৩৬ হেক্টর (৫৫%) ধান কাটা হয়েছে। কাটা ধানের মধ্যে প্রায় ১৫% থেকে ১৮% চারা গজিয়ে নষ্ট হয়েছে। তিনি আরও জানান, ধান কাটার বাকি আছে ৫% এবং ৪০% ধান ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।
ড্রায়ার মেশিনের দাবি ও প্রশাসনের আশ্বাস
কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম উভয়েই মনে করেন, হাওর অঞ্চলে ধান শুকানোর জন্য ‘ড্রায়ার মেশিন’ স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। ইউএনও বলেন, “বৃষ্টির কারণে ধান ঘরে তুলেও কৃষকরা শুকাতে পারছেন না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আগামী মৌসুমে ড্রায়ার মেশিন সরবরাহের জন্য মাননীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হবে।”
