৭ নভেম্বরের কর্মসূচির মধ্য দিয়েই বিএনপির নির্বাচনী যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
এবারের ৭ নভেম্বর অন্যবারের চেয়ে ভিন্ন মেজাজে উদ্যাপন করবে বিএনপি। দলটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দিনটি উপলক্ষে সারা দেশে দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা আজ শুক্রবার নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, যার মধ্য দিয়ে কার্যত বিএনপির নির্বাচনী যাত্রা শুরু হবে।
ভিন্ন মেজাজে পালনের সিদ্ধান্ত
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবারের ৭ নভেম্বরকে ভিন্ন মেজাজে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তা হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীদের একযোগে মাঠে নামানো।
- কর্মসূচি: এবার ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিভাগীয়, জেলাসহ সারা দেশে আলোচনা অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রার পাশাপাশি জনসভার কর্মসূচি রাখা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারসহ জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।
- প্রচার জোরদার: গত সোমবার বিএনপি প্রার্থী হিসেবে ২৩৭ জনের প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণা করে। ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’–এর কর্মসূচি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দলীয় নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’–এর পক্ষে প্রচার জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- রাজধানীর কর্মসূচি: এ উপলক্ষে রাজধানীতে আজ বেলা তিনটায় বিএনপির উদ্যোগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা হবে। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় সমাবেশসহ জনসংযোগের কর্মসূচি রেখেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন সামনে রেখে এবারের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা অন্যবারের চেয়ে বেশি। তাই এবারের ৭ নভেম্বর একটা ভিন্ন মেজাজে উদ্যাপিত হবে।”
নির্বাচনী যাত্রা শুরু
বিভিন্ন আসনে প্রার্থীরা আজ থেকেই তাদের নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করছেন:
- জহির উদ্দিন স্বপন: বরিশাল-১ (গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া) আসনে আজ বেলা তিনটায় গৌরনদী সরকারি স্কুল মাঠে তাঁর নির্বাচনী জনসভা হবে।
- শহীদ উদ্দীন চৌধুরী: লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির এই প্রার্থী আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় মান্দারি বাজারে সমাবেশ করবেন।
- নজরুল ইসলাম মঞ্জু: খুলনা-২ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী জানান, তাঁদেরও আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দিনের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদের পতনের পর বাংলাদেশ যে নতুন যাত্রা শুরু করেছে, সেখানে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক দিনে সেই নির্বাচনের পথে যাত্রা শুরু করছি।“
