ময়মনসিংহে মাদকের প্রতিবাদ করায় সাবেক যুবদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা; প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩
স্টাফ রিপোর্টার , ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ নগরীতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের শাবলের আঘাতে গুরুতর আহত সাবেক যুবদল নেতা রাজা মিয়া (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তিনি ময়মনসিংহ মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নগরীর কৃষ্টপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর হামলার শিকার হওয়ার পর চার দিন ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
হামলার নেপথ্য ও ঘটনাপঞ্জি
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রাজা মিয়া বেশ কিছুদিন ধরে কৃষ্টপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি কবির ও তার সহযোগীদের মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এই বিরোধের জের ধরে গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে রাজা মিয়া নাস্তা শেষ করে ঘরে অবস্থানকালে কবিরের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা রাজা মিয়াকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র ও শাবল দিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে সেখানে আইসিইউ (ICU) শয্যা ফাঁকা না থাকায় পুনরায় ময়মনসিংহে ফিরিয়ে এনে একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। সেখানে শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
মামলা ও আসামিদের বর্তমান অবস্থা
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি কবির (৩০), বিনু (৩৮) ও নিশাত (২৫)-সহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় নথিভুক্ত হলেও ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর তা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে অভিযানের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি কবিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
