ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে ড্রামবন্দি স্বর্ণ কারিগর হত্যা রহস্য উন্মোচন; গাজীপুর থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

f X

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ী স্লুইস গেট এলাকার খাল থেকে ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ কারিগর নিরঞ্জন ধর (৫৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করা হলো।

​আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার বটতলা এলাকার সর্দার মার্কেটস্থ শ্যালকের ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম শামীম মিয়া (৩৮)। সে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৃষ্টপুর গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে।

​সংবাদ সম্মেলন ও উদ্ধার অভিযান

​আজ দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান।

​তিনি জানান, আসামি শামীমকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত হিসেবে একটি শিল ও বটি উদ্ধার করা হয়েছে।

​ব্ল্যাকমেইলিং ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ

​পিবিআই জানায়, নিহত নিরঞ্জন ধর পেশায় স্বর্ণের কারিগর হওয়ার পাশাপাশি চারটি অটোরিকশার মালিক ছিলেন। অটোরিকশাগুলো ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকার ‘সততা গ্যারেজ’-এ রাখা হতো, যেখানে শামীম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। গ্যারেজে যাতায়াতের সুবাদে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ট পরিচয় ছিল।

​তদন্তে উঠে আসে, আসামি শামীমের একটি আপত্তিকর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও গোপনে নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করেন নিরঞ্জন ধর। পরবর্তীতে সেই ভিডিও পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শামীমের কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় করেন তিনি। সম্প্রতি নিরঞ্জন আরও টাকা দাবি করলে এবং প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেইল করতে থাকলে ক্ষিপ্ত হয়ে শামীম তাকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে।

​ঘটনার পটভূমি ও মামলা

​উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ সদর থানার বেগুনবাড়ী স্লুইস গেট এলাকার খালে একটি ড্রামের ভেতরে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি নিরঞ্জন ধরের বলে শনাক্ত করেন।

​এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সবিতা রানী ধর বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মূল অভিযুক্ত শামীমকে শনাক্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।