রেজাউল করিম, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের খাগডহর আলাদের মোড়-কান্দাবাড়ী এলাকায় বাবুলু ওরফে বাবজু (২৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পূর্ববিরোধের জেরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার এবং মামলা না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত বাবুলুর স্বজন রিপনের দায়ের করা এজাহারে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—আলাল, সাকিব, মানিক, রায়হান, সুরুজ, মনির, ছহ্বান আলী, রিপন, রকি, মুকুল, আমিরুল, কামাল মিয়া, আনার ও রহিমা বেগম।
বিরোধ ও হামলার সূত্রপাত
এজাহারের বিবরণে বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট খাগডহর আলাদের মোড়ে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বাদীর চাচাতো ভাই তারিফ ও শরিফের সঙ্গে কয়েকজনের কথাকাটাকাটি ও সামান্য বিরোধ বাঁধে। ওই বিরোধ মীমাংসায় ছোট ভাই বাবুলু ওরফে বাবজু এগিয়ে গেলে একই দিন সন্ধ্যায় তাকে সাইফুলের পুকুরের পশ্চিম পাড়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১ নম্বর আসামি আলালের নির্দেশে ২ নম্বর আসামি সাকিব কুড়াল দিয়ে বাবুলুর কোমরে আঘাত করেন। এ ছাড়া সুরুজ, মনির এবং অন্যান্য আসামিরা ধারালো দা, চাকু, লোহার টেডা ও লোহার রড দিয়ে মাথায় ও শরীরে উপর্যুপরি মারাত্মক আঘাত করেন।
অচেতন অবস্থায় নির্যাতন ও অন্যান্যদের ওপর হামলা
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাবুলু অচেতন হয়ে পড়লেও তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে আসামিরা শাবল, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন।
এ সময় বাবুলুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা আরজু নামের এক ব্যক্তিকে দা দিয়ে কোপানো হলে তার কনুইয়ের নিচে গুরুতর জখম হয়। পাশাপাশি ফাতেমা ও শারমিন নামের দুই নারীকেও লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করা হয়।
হাসপাতালে মৃত্যু ও মামলার বিলম্ব
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুলুকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
দাফন-কাফন ও স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগায় ২৬ আগস্ট থানায় এজাহার দায়ের করা হয় বলে বাদী উল্লেখ করেছেন।
হুমকি ও তদন্তাধীন বিষয়
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার পর আসামিরা বাদী ও তার পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নিলে প্রাণনাশের প্রকাশ্য হুমকি দেন। তবে এটি বাদীর অভিযোগের প্রাথমিক বিবরণ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং মেডিকেল নথির ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততা ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।