পোশাক যখন রাষ্ট্রীয় লাঞ্ছনার শিকার—বিচারের কাঠগড়ায় খোদ প্রশাসন!

শেখ মেহেদী হাসান নাদিম

একটি স্বাধীন দেশের পুলিশ কমিশনার যখন সাইবার অপরাধীদের কুরুচিপূর্ণ বর্ণনায় ‘নগ্ন’ হন, তখন বুঝতে হবে সেই নগ্নতা কেবল ওই কর্মকর্তার নয়—বরং তা গোটা রাষ্ট্রের প্রশাসনের নগ্নতা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারকে কেন্দ্র করে যে নোংরা অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তা কোনো সাধারণ গুজব নয়; এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম প্রতীকের ওপর সরাসরি এক পৈশাচিক কুঠারাঘাত।

পুলিশ কমিশনার কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি ১৬ কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী একটি বিশাল বাহিনীর আঞ্চলিক প্রধান। তার গায়ে থাকা ইউনিফর্মটি বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনের রক্ষাকবচ। অপরাধীরা যখন বর্ণনার মাধ্যমে সেই পোশাক খুলে ফেলার আস্পর্ধা দেখায়, তখন বুঝতে হবে তারা আসলে আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।

“যে হাত রাষ্ট্রীয় পোশাক স্পর্শ করার সাহস পায়, সেই হাত যদি রাষ্ট্র গুঁড়িয়ে দিতে না পারে, তবে বুঝতে হবে সেই রাষ্ট্র নিজেই আজ পঙ্গু হয়ে পড়েছে।”

রাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যখন এভাবে ‘চরিত্রহননের’ শিকার হন, তখন পুলিশ সদর দপ্তর (Police Headquarters) বা আইজিপি-র দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকা এক ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে। প্রশাসনের এই নীরবতা কি তবে অপরাধীদের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন? কেন এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে? আইজিপি যদি আজ তার অধীনস্থ কর্মকর্তার সম্মান রক্ষা করতে না পারেন, তবে কনস্টেবল থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা কোন সাহসে দায়িত্ব পালন করবেন?

পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে আমরা দায়বদ্ধ সত্যের কাছে। কিন্তু যখন দেখা যায় খোদ পুলিশ প্রশাসনই ন্যায়বিচার বঞ্চিত, তখন সাধারণ মানুষের মনে আইনের প্রতি চরম অনীহা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। আপনার বা আমার মতো সাংবাদিকরা যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরি, তখন আমরা রাষ্ট্রের সুরক্ষা চাই। কিন্তু রক্ষকই যদি আজ বস্ত্রবিহীন ও বিচারহীন অবস্থায় জনগণের সামনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, তবে সেই রাষ্ট্র ‘ভক্ষকের’ রাজত্বে পরিণত হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার।

আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই— গোপন চিঠিতে বা দাপ্তরিক ফাইলে এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার দিন শেষ। ‘দৈনিক জাহান’ সত্যকে আড়াল করতে শেখেনি। যারা বর্ণনা দিয়ে একজন কমিশনারকে নগ্ন করেছে, তাদের আড়াল করার প্রতিটি চেষ্টাকে আমরা নস্যাৎ করে দেব।

  • যদি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে ধরে নিতে হবে এই প্রশাসন নিজেই অপরাধীদের হাতে জিম্মি।
  • আইনের শাসন কেবল কিতাবে থাকার জন্য নয়; এটি প্রয়োগের জন্য। আর প্রয়োগের শুরুটা হতে হবে এই অপপ্রচারকারীদের মূলোৎপাটন করার মধ্য দিয়েই।

রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা এই নোংরা মানসিকতা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা আমরা আর সহ্য করব না। এই কলম থামবে না যতক্ষণ না এই নগ্ন অপপ্রচারের নেপথ্যে থাকা কুশীলবরা জনগণের আদালতে বিচারের সম্মুখীন হচ্ছে।

About The Author

3 thoughts on “পোশাক যখন রাষ্ট্রীয় লাঞ্ছনার শিকার—বিচারের কাঠগড়ায় খোদ প্রশাসন!

  1. অতীত এবং বর্তমানে পুলিশের এরকম নিরব ভূমিকাই পুলিশের এরকম নগ্নতায় নিমজ্জিত হওয়ার কারন।

  2. প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, নির্মূল করণ এই এন্টিবায়োটিক জাতীয় কদাচিত ব্যবহৃত শব্দগুলো বাস্তবে, অর্থাৎ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা প্রতিটি শিক্ষিত নাগরিকের নৈতিক দ্বায়িত্বের পর্যায়ে আজ আর নেই; কারন, এগুলো অস্তিত্বরক্ষার প্রসঙ্গ হয়ে উঠেছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *