“অপরাধী” জন্মই যার ছায়াতলে! ছিড়বে এবার সেই অবৈধ পেটিকোট
শেখ মেহেদী হাসান নাদিম

রাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কমিশনারের সম্মান যখন রাজপথে লুণ্ঠিত হয় এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা রহস্যজনক নীরবতা পালন করেন, তখন বুঝতে হবে অপরাধের শেকড় অনেক গভীরে। এই নীরবতা কোনো সাধারণ প্রশাসনিক স্থবিরতা নয়, বরং অপরাধীদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ছায়াতলে লালন-পালন করার নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ। একজন বিভাগীয় পুলিশ প্রধানকে বর্ণনায় নগ্ন করার সাহস যারা দেখায়, তারা সমাজ বা রাষ্ট্রের কেউ নয়—তারা সেই অশুভ শক্তির ছায়া যা আইনের শাসনকে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।আমাদের দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে একটি ভয়াবহ ধারা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধী রক্ষার কৌশল
যখনই কোনো জঘন্য অপরাধের সংবাদ জনসম্মুখে আসে, অমনি অপরাধীকে কোনো একটি নির্দিষ্ট দল বা ‘লীগ’-এর নোংরা শাড়ি পরিয়ে “পতিতা” পরিচয় উপহার দিয়ে রক্ষার চেষ্টা শুরু হয়। অলিখিত, অঘোষিত ভাবে সমাজকে বোঝানো হয়, তারা দলীয় অবৈধ সন্তান! এই দলীয় নোংরামির আড়ালে অপরাধীকে এমন এক অভয়অরণ্যে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পৌঁছানোর সাহস বা সদিচ্ছা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর থাকে না। রাজনৈতিক পরিচয়ের এই ঢাল ব্যবহার করে রাষ্ট্রের পাহারাদারদেরই আজ জনগণের সামনে বস্ত্রহীন করার মহড়া চলছে।
সত্য প্রকাশে সাংবাদিকতার অঙ্গীকার
আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করছি—অনতিবিলম্বে ওই সমস্ত অবৈধ পেটিকোট ছিঁড়ে ফেলব আমরা। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি মনে করে দলীয় ছত্রছায়ায় থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতীকের অবমাননা করে পার পেয়ে যাবে, তবে তারা ভুলের স্বর্গে বাস করছে। আইজিপি বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ফাইলের পর ফাইল চাপা দিয়ে সত্য গোপন করতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতার কলম সেই মিথ্যার দেয়াল ভেঙে দিতে জানে। রক্ষক যদি নিজের পোশাকের মর্যাদা রক্ষা করতে না পারেন, তবে তার চেয়ারে থাকার নৈতিক অধিকার তিনি হারিয়েছেন।
যখন কোনো অপরাধীকে ‘দলীয় ছায়া’ পেটিকোট + শাড়ী দিয়ে আড়াল করা হয়, তখন কেবল একজন ব্যক্তি নয়, বরং গোটা বিচারব্যবস্থা পরাজিত হয়। এই বিচারহীনতা সাধারণ মানুষের মনে আইন ও রাষ্ট্রের প্রতি যে তীব্র ঘৃণা তৈরি করছে, তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। অপরাধীর কোনো দল থাকতে পারে না; তার একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। যারা বর্ণনা দিয়ে একজন কমিশনারকে নগ্ন করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, তারা কোন রঙের বা কোন লীগের, তা আমাদের কাছে তুচ্ছ।
কদর্য চেহারা উন্মোচনের লড়াই
আমরা রাজপথের লড়াই এবং টেবিলের কলম—উভয় ক্ষেত্রেই প্রস্তুত। ওইসব অবৈধ রাজনৈতিক পেটিকোট খুলে অপরাধীদের আসল কদর্য চেহারা জাতির সামনে উন্মোচন করাই এখন আমাদের মূল অঙ্গীকার। যারা রাষ্ট্রকে নগ্ন করতে চায়, সমাজই তাদের নগ্ন করে বিচার করবে।
