মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দেওয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নজিরবিহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তেল পাওয়ার আশায় ফিলিং স্টেশনের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন শত শত চালক।
সড়কের পাশে নির্ঘুম রাত
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত থেকে সুবর্ণচর উপজেলার নুরানী ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কে দেখা গেছে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে তেল দেওয়া হবে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে মধ্যরাত থেকেই চালকরা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তেলের নাগাল পেতে অনেক চালক তাঁদের মোটরসাইকেল লাইনে রেখে গাড়ির ওপর কিংবা রাস্তার পাশে কলাপাতা বিছিয়ে শুয়ে রাত কাটিয়েছেন।
পেশাজীবীদের চরম ভোগান্তি
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তায় চালকদের মধ্যে ক্লান্তি ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দিদার নামে এক বিপণন কর্মী বলেন, “আমাদের মার্কেটিংয়ের কাজে সারাদিন বাইক নিয়ে ঘুরতে হয়। সকালে এসে লাইনে দাঁড়ালে তেল পেতে দুপুর হয়ে যাবে, আবার নাও পেতে পারি। তাই বাধ্য হয়ে রাতেই এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি।” অনেক চালক জানান, তেলের এই সংকটে তাঁদের স্বাভাবিক দাপ্তরিক ও ব্যবসায়িক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
নুরানী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু রাত থেকেই চালকরা ভিড় করায় সকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, সুবর্ণচরে জ্বালানি সরবরাহের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও, সংকটের গুজবে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে, যার ফলে এমন উপচে পড়া ভিড়।
ভবিষ্যৎ শঙ্কা
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে। বিশেষ করে জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ পেশাজীবীরা বড় ধরনের সংকটে পড়বেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সুবর্ণচরবাসী।