মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী প্রতিনিধি

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী। জেলাটিতে পাসের হার মাত্র ৩৮.৯০ শতাংশ। বিপরীতে ৫৩.৫২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা। এই ফলাফল জেলার শিক্ষার মান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বোর্ডের সার্বিক ও জেলাভিত্তিক ফলাফল পরিসংখ্যান
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ফলাফল প্রকাশ করেন।
- বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯২,১৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৪,২৭২ জন। বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ।
- জেলাভিত্তিক ফলাফলে কুমিল্লায় পাসের হার ৫৩.৫২, ফেনীতে ৫২.১৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫০.১৫, চাঁদপুরে ৪৫.৩৫, লক্ষ্মীপুরে ৪১.২৯ এবং নোয়াখালীতে ৩৮.৯০ শতাংশ।
- বোর্ডের গড় পাসের হারের চেয়ে নোয়াখালী ৯.১৪ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে। এমনকি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা লক্ষ্মীপুরের তুলনায়ও নোয়াখালীর পাসের হার ২.৩৯ শতাংশ কম।
বিভাগ ও লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলের ব্যবধান
এবারের ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো করেছে।
- বোর্ডে ছেলেদের পাসের হার ৪৩.১৭ শতাংশ (অংশগ্রহণ ৩৬,৭১৮ জন, পাস ১৫,৮৫৭ জন), বিপরীতে মেয়েদের পাসের হার ৫১.২৬ শতাংশ (অংশগ্রহণ ৫৫,৪৩৪ জন, পাস ২৮,৪১৫ জন)।
- বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে বেশি, ৬৩.৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪০.৭৩ এবং মানবিক বিভাগে ৪১.৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
- বোর্ডের অধীনে ৪৫৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি এবং শতভাগ পাস করেছে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠান।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হয়েছে। নিম্ন শ্রেণি থেকেই এসব বিষয়ে মৌলিক ধারণা পরিষ্কার না থাকায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত ফল করতে পারেনি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে দুর্বলতাকে দায়ী করলেই চলবে না; শিক্ষকসংকট, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ, নিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নোয়াখালীর শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘুরে দাঁড়াতে উপজেলা ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করাসহ ইংরেজি ও গণিতে বিশেষ পাঠদান এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে।