খালেদা জিয়ার মৃত্যু: এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে অশ্রুসিক্ত মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কান্নায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন তাদের প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে।

সবাই যেন আপনজন হারানো ব্যথায় ব্যথিত

হাসপাতালের সামনে কথা হয় মিরপুর থেকে আসা নাসরিন জাহানের সঙ্গে। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, “আমি রাজনীতি করি না। কিন্তু খালেদা জিয়াকে দেখে আমরা বড় হয়েছি। তিনি অসুস্থ ছিলেন জানতাম, কিন্তু মৃত্যুর খবর শুনে আর ঘরে থাকতে পারিনি। এখানে এসে মনে হচ্ছে, সবাই আমার মতোই কাঁদছে।”

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আরিফ হাসনাত স্মৃতিচারণা করে বলেন, “ম্যাডাম আমাদের শুধু নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাহস ও অনুপ্রেরণার নাম। নব্বইয়ের আন্দোলনে তিনি আমাদের যে শক্তি দিয়েছেন, তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে থাকবে।”

দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের স্রোত

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও কেরানীগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা হাসপাতালে আসতে থাকেন। গাজীপুর থেকে আসা যুবক খোরশেদ আলম বলেন, “কাজ ফেলে চলে এসেছি। মনে হচ্ছিল, না এলে অপরাধ হবে।”

দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের স্রোত

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও কেরানীগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা হাসপাতালে আসতে থাকেন। গাজীপুর থেকে আসা যুবক খোরশেদ আলম বলেন, “কাজ ফেলে চলে এসেছি। মনে হচ্ছিল, না এলে অপরাধ হবে।”

অশ্রুসিক্ত রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা

ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজীব পাটওয়ারীসহ ছাত্রদলের শত শত নেতাকর্মী সকাল থেকেই হাসপাতালের গেটে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন ও মনির খানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করেন। রিকশাচালক আল আমিন থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেও এই শোকের আবহ ছিল স্পষ্ট।

শৃঙ্খলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। উপস্থিত জনতাকে শান্ত রাখতে এবং সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে বারবার অনুরোধ জানানো হয়।

সন্ধ্যায়ও হাসপাতালের সামনে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বাড্ডা থেকে আসা এক নারী বলেন, “ম্যাডাম নিজের জন্য কিছু করেননি, সব করেছেন দেশের জন্য। ওনাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি যাননি। এই আপসহীন মানুষটির মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *